‘দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বাতাসে’ পথে পথে কোরবানি বর্জ্য

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ধীর গতি ও অদক্ষতার কারণে এখনো সরেনি অধিকাংশ কোরবানির বর্জ্য।

ফলে নগরের পথে পথে স্তুপ হয়ে পড়ে আছে এসব বর্জ্য। এতে দূষিত হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ। বের হচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ।

বুধবার (২১ জুলাই) সকালে নগরবাসীর অধিকাংশ পরিবারই বাড়ির সামনে অথবা প্রধান সড়কের ধারে কোরবানি দিয়েছেন। অনেকেই মাংস কাটার কাজ করেছেন ফুটপাত ও রাস্তায়। সকালেই নগরের বিভিন্ন রাস্তায় দেখা যায় রক্ত ও পানিতে একাকার।

এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বন্দর নগরীতে পশু কোরবানির জন্য ৩০৪টি স্থান নির্ধারণ করে দেয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি যত্রতত্র পশুর চামড়া না ফেলার নির্দেশনাও দেন। কিন্তু তাতে নগরবাসীর তেমন একটা সাড়া মেলেনি। যে যার মতই দিয়েছেন কোরবানি।

এদিকে বুধবার সকাল ৯টা থেকে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে মাঠে কাজ করছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কর্মী।

এর আগে সবরকম প্রস্তুতির কথা জানিয়ে চসিক মেয়র এম রেজাউল করিম ১০ ঘণ্টার মধ্যে নগরের সকল কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কথা জানিয়ে নগরবাসীকে সহযোগিতার অনুরোধ করেন।

ইতোমধ্যে মেয়রের দেওয়া সময়ের প্রায় ৮ ঘণ্টা অতিবাহিত হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ওয়ার্ডের রাস্তা ও আশপাশের অলিগলিতে বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা গেছে। অধিকাংশ এলাকার কন্টেইনারগুলো ভরে গিয়ে আবর্জনা রাস্তায় স্তুপ হয়ে পড়েছে।

এছাড়া কোনো কোনো এলাকার আবর্জনা পরিষ্কার করা হলেও ছিটানো হয়নি পানি ও ব্লিচিং পাউডার। রাস্তায় রক্তের ছোপ ছোপ দাগ ভেসে উঠে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।

বুধবার (২১ জুলাই) বিকালে সরেজমিন নগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে এসব তথ্য ও চিত্র পাওয়া যায়।

বেলা ৩টায় নগরের হেলদি ওয়ার্ড জামালখানের রাস্তার আবর্জনা স্তুপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিউ মনসুরাবাদের ঈদগা এলাকায় রাস্তায় পড়ে থাকা আবর্জনা টানাটানিতে ব্যস্ত কুকুর। পাহাড়তলি আবুল বিড়ি কোম্পানির সামনে কন্টেইনার উপচে রাস্তা দখল করেছে আবর্জনা।

পাহাড়তলী চালের বাজারের সামনের রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে আবর্জনা। বের হচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। এছাড়া নোয়াপাড়া এলাকার চিত্রও প্রায় একই।

পূর্ব বাকলিয়া, পশ্চিম বাকলিয়া কে বি আমান আলী রোড, ডিসি রোড, চকবাজার কাঁচাবাজার, চন্দনপুরা, দেওয়ানবাজার সাবএরিয়া, আন্দরকিল্লা কাটাপাহাড় লেইন ও চেরাগি পাহাড় ঘুরে দেখা গেল রাস্তার মোড়ে মোড়ে আবর্জনার স্তুপ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চসিক বর্জ্য স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী ও উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তার মোবাইলে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউ ফোনকল ধরেননি।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার নগরে প্রায় ৮ লাখ ৯ হাজার পশু জবাই করা হবে।

চসিক সূত্রে জানা গেছে, এবার বর্জ্য অপসারণে নগরকে চারটি জোনে ভাগ করে চারজন কাউন্সিলরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উত্তর জোনের ১০টি ওয়ার্ডে কার্যক্রম তদারকি করছেন কাউন্সিলর এসরারুল হক। দক্ষিণের ১১টি ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছেন কাউন্সিলর আবদুল বারেক। পূর্ব জোনের ১১টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন এবং পশ্চিম জোনের ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর মো. ইসমাইল দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া পুরো নগরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ তত্ত্বাবধান করছেন কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী।

এদিকে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্যে চসিক দামপাড়া অফিসে কন্ট্রোল রুম খোলা রয়েছে। যার নম্বর : ৬৩০৭৩৯ ও ৬৩৩৬৪৯। নগরের কোথাও ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখলে কন্ট্রোল রুমে জানালে দ্রুত তা অপসারণ করা হবে।

আরবি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm