স্ত্রীসহ দুদকের জালে বিএনপি নেতা আসলাম, আয়কর নথি জব্দ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী জামিলা নাজনীন মাওলার আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৫ মে) চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আবদুল আজিজ ভূঁইয়ার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের পিপি কাজী ছানোয়ার আহমেদ লাভলু আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) মো. জাহাঙ্গীর আলম মামলা তদন্তের স্বার্থে গত ৭ মে আসলাম চৌধুরীর আয়কর নথি জব্দের আবেদন করেন। এতে আসলাম চৌধুরীর ২০০১ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথি জব্দের আবেদন করা হয়। আজ সেই আবেদনের শুনানির দিনে আদালত তা আমলে নিয়ে আয়কর নথি জব্দের আদেশ দেন।

আসলাম চৌধুরী চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার দক্ষিণ ভাটিয়ারী মজিদ চৌধুরী বাড়ির মো. গোলাম হোসেন চৌধুরীর ছেলে।

আরও পড়ুন : দুর্নীতির মামলায় ফেঁসে গেলেন বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী

জানা যায়, চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ ২০০৪ এর ২৭(১) ধারায় মামলা করে। মামলায় গত ৫ মে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ৪১৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে আট বছর ধরে কারাবন্দী থাকা আসলাম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছিলেন একই আদালত। সেদিন এ মামলায় তাঁর পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে আদালত নামঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০১ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন পন্থায় অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি আসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।

গত ২৮ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম তাঁকে গ্রেপ্তার দেখাতে আদালতে আবেদন করেন। দুদকের এ মামলার শুনানির জন্য আসলাম চৌধুরীকে কুমিল্লা কারাগার থেকে চট্টগ্রাম আদালতে আনা হয়।

আরও জানা যায়, ২০০১ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০১১ সালের ১১ নভেম্বর পর্যন্ত ১৪৬টি সাফ কবলার মাধ্যমে মোট ১৬ কোটি ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ১৮৫ টাকার স্থাবর সম্পদের মালিক হন আসলাম চৌধুরী। এছাড়া ২০০১ সালের ২১ মার্চ থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যবসায় ও অংশীদারি প্রতিষ্ঠানে পুঁজি বিনিয়োগ, বিভিন্ন ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠানে একাধিক অ্যাকাউন্টে জমা করা অর্থ, আসবাবপত্র ও স্বর্ণালঙ্কার মিলিয়ে ৩৬২ কোটি ৭১ লাখ ৩৮ হাজার ২৮০ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তাঁর।

আসলাম চৌধুরীর নিট সম্পদ ৩৩ কোটি ৫৪ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৬ টাকা হলেও গ্রহণযোগ্য আয় ১৮ কোটি ২৭ লাখ ৮৫ হাজার ২শ টাকা। সেই হিসাবে তাঁর জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদের পরিমাণ ১৫ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ৪১৬ টাকা।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রদ্রোহ, নাশকতা, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক মামলায় ২০১৬ সালের ১৫ মে থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

আরএস/আরবি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!