দিনদুপুরে হামলা—তরুণী নারী ছাত্র ইউনিয়ন নেতাসহ ৬ জন রক্তাক্ত

চকরিয়ায় পূর্বশত্রুতার জেরে একটি পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

হামলায় ছাত্র ইউনিয়নের নেতাসহ ছয়জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: হঠাৎ হামলায় পা ভেঙে দিল বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান যুবদল নেতার

রোববার (১৭এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার ৩নম্বর ওয়ার্ডের তরছঘাট জলদাশপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- চকরিয়া পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের তরছঘাট জলদাশ পাড়ার হরিদাস চক্রবর্তীর ছেলে সমীরণ চক্রবর্তী (৬২), সমীরণ চক্রবর্তীর স্ত্রী রুপনা চক্রবর্তী (৪৫), ছেলে ও চকরিয়া উপজেলা ছাত্র ইউনিয়ন সদস্য রানা চক্রবর্তী (২২), মেয়ে অনন্যা চক্রবর্তী (১৭), একই এলাকার মৃত গোপাল বৈষ্ণবের ছেলে মাধব চক্রবর্তী, অমল চক্রবর্তীর স্ত্রী দেবকী চক্রবর্তী ও মো. সেলিম।

এদিকে এ ঘটনায় সমীরণ চক্রবর্তী বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন- চকরিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তরছঘাটের জলদাশপাড়ার হরিদাশ চক্রবর্তীর ছেলে নারায়ণ চক্রবর্তী (৩৮), ঠাকুর চক্রবর্তীর স্ত্রী ডলি চক্রবর্তী (২২), নারায়ণ চক্রবর্তীর স্ত্রী ববি চক্রবর্তী, মৃত কৃষ্ণ চক্রবর্তীর ছেলে নয়ন চক্রবর্তীসহ অজ্ঞাত আরও ৫ জন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে নারায়ণ চক্রবর্তী সমীরের পরিবারের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এমনকি একমাত্র ছেলে রানা চক্রবর্তী ও মেয়ে অনন্যা চক্রবর্তীকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। ভয়ে পরিবার নিয়ে পৌরসভার চিরিঙ্গা হিন্দুপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে বসবাস শুরু করেন তাঁরা।

আজ (রোববার) দুপুরে সমীর ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তরছঘাটের জলদাশপাড়ার বসতবাড়ি পরিষ্কার করতে গেলে নারায়ণ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত দা, লোহার রড, হাতুড়ি ও কাঁচি নিয়ে হামলা চালায়। এসময় হামলায় রানা গুরুতর আহত হন।

পরে রানাকে বাঁচাতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এসময় তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে সমীরের স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

এছাড়া নারায়ণ চক্রবর্তীর নেতৃত্বে দুর্বৃত্তরা স্ত্রী ও মেয়ের শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করেন এবং তাদের পরনে থাকা স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেন। যার আনুমানিক মূল্য ৫৫ হাজার টাকা।

এদিকে চকরিয়া উপজেলা ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য রানা চক্রবর্তীর ওপর হামলা খবরে দেখতে আসেন ছাত্র ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি জয় বড়ুয়া, সহসভাপতি বিবেক চক্রবর্তী, সাদেকুর রহমান সৈকতসহ আরও বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা।

এসময় ছাত্র ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি জয় বড়ুয়া বলেন, এ ঘটনা ন্যাক্কারজনক। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।

আরও পড়ুন: রাতের আঁধারে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা—বসের সঙ্গে ‘বেয়াদবি’ করায় যুবককে খুনের হুমকি

জানতে চাইলে চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসার এসআই রাজিব চক্রবর্তী বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, হামলার ঘটনায় একটি এজাহার পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুকুল/আরবি

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm