টাকার নেশায় নিজের ছেলেকে বেচে অন্যের ছেলে নিয়ে পালাল তরুণী

নগরের বাকলিয়া থানার কল্পলোক আবাসিকে দম্পতির সঙ্গে উপ-ভাড়ায় (সাবলেট) উঠেছিল এক তরুণী। পরে সুযোগ বুঝে সেই দম্পতির পাঁচ মাস বয়সী শিশু, মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় সেই তরুণী। তবে পালিয়ে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। ঘটনার তিনদিন পর তাকে গ্রেপ্তার করেছে বাকলিয়া থানা পুলিশ।

বুধবার (৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুতুবদিয়া থেকে নাফিজা আক্তার সুমি (২০) নামের ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৭ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তার নাফিজা আক্তার সুমি কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার বড় বাগডেইল এলাকার মনিরের বাপের বাড়ির নজরুল ইসলামের স্ত্রী।

জানা গেছে, কয়েকদিন আগে তার নিজের ৪ থেকে ৫ মাসের বয়সী বাচ্চাকে বিক্রি করে দেয় ওই তরুণী।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে শিশু অপহরণ, নানীর সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতেই নাতনিকে নিয়ে উধাও

Yakub Group

পুলিশ জানায়, অপহৃত শিশুর বাবা মো. জমির উদ্দিন পেশায় বাসের হেলপার। মাসখানেক আগে আসামি সুমি বহদ্দারহাট এলাকায় বাস থেকে নেমে রাস্তার পাশে বসে কান্নাকাটি করছিল।

এসময় জমির উদ্দিন কান্নার কারণ জানতে চাইলে সুমি জানায়, সে চাকরির সন্ধানে চট্টগ্রামে এসেছে। এখানে তার কোনো আত্মীয় নেই। এখন সে কার বাসায় থাকবে?

তখন জমির উদ্দিন স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে কথা বলে সুমিকে বাকলিয়া থানার কল্পলোক আবাসিকের তাদের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে মাসখানেক তাদের সঙ্গে সাবলেট হিসেবে থাকে সুমি।

এরপর কয়েকদিন টাইলস হেলপার হিসেবে কাজ করে সুমি। গত ৭ নভেম্বর ভোরে জমির গাড়ি নিয়ে চলে যায়। সকাল ৮টার দিকে ৫ মাসের শিশু আসমা উল হোসনাকে সুমির কোলে দিয়ে তাসলিমা বাথরুমে গোসল করতে যান। গোসল শেষে বাথরুম থেকে বের হয়ে দেখেন সুমি এবং তার সন্তান বাসায় নেই। এরপর আশপাশে অনেক খোঁজাখুজির পর বাসায় ফিরে দেখেন বিছানার ওপর রাখা তার মোবাইল ফোন ও ওয়ারড্রবের ভেতরে থাকা দুহাজার টাকাও নেই। তখন তিনি বুঝতে পারেন তার সন্তান অপরহণ হয়েছে।

পরে এ ঘটনায় বুধবার (৯ নভেম্বর) বাকলিয়া থানায় তাসলিমা আক্তার বাদী হয়ে অপহরণ মামলা করেন।

এ বিষয়ে বাকলিয়া থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, মামলায় অপহৃত শিশুর অভিভাবকরা আসামির সঠিক নাম-ঠিকানা দিতে পারেননি। শুধুমাত্র একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে কুতুবদিয়া থেকে অপহরণকারী নাফিজা আক্তার সুমিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মূলত বিক্রি করার জন্য ওই শিশুকে অপহরণ করা হয়েছিল। কয়েকদিন আগে তার নিজের ৪ থেকে ৫ মাসের বয়সী বাচ্চাকে বিক্রি করে দেয় ওই নারী।

এনইউএস/আরবি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm