ডেঙ্গু—ম্যালেরিয়া ‘ভয়ঙ্কর’ থাবা কর্ণফুলীতে, তথ্য নিয়ে লুকোচুরি

কর্ণফুলীতে বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। একইসঙ্গে বেড়েছে ম্যালেরিয়া রোগী। কিন্তু রোগীর তথ্য নিয়ে লুকোচুরির অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সহকারীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, উপজেলায় দায়িত্বরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সহকারীরা গণমাধ্যমকর্মীদের সঠিক তথ্য দিতে রাজি হচ্ছেন না। অথচ সিভিল সার্জনের তরফ থেকে হাসপাতালে ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীর তথ্য জানাতে বলা হয়েছে।

এদিকে গত কয়েক সপ্তাহে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা, চরপাথরঘাটা, শিকলবাহা ও জুলধা ইউনিয়নের ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে অনেকে আবার চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরেছেন।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুর হানা চট্টগ্রামেও, মাথাব্যথা নেই সিটি করপোরেশনের—১২ এলাকায় বাড়ছে রোগী

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন শিকলবাহার মো. আমিনুল (১৮)। হাসপাতালের ১৫ নম্বর কেবিনে তিনি ডা. ইশতিয়াক আহমেদের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁর পরিবারের আরও দুজন ডেঙ্গু আক্রান্ত।

Yakub Group

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নগরের জিইসি মোড়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি আছেন কর্ণফুলীর পিন্টু (১৭)। তিনি শিকলবাহা তাতিয়া পুকুরপাড় গ্রামের মো. পেয়ারের ছেলে।

চরপাথরঘাটা এলাকার লেয়াকত আলী সওদাগরের শিশু সন্তানও ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে পার্কভিউতে পাঁচদিন ধরে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

নির্ভরযোগ্য তথ্য আরও বলছে, জুলধা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে রয়েছে কয়েকজন ম্যালেরিয়া রোগী। চরলক্ষ্যা ৪নং ওয়ার্ডে রয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত একাধিক রোগী। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বাস্থ্য সহকারী ইউনুস এবং স্বাস্থ্য পরিদর্শক অলকের কাছে এর কোনো সঠিক তথ্য নেই।

চিকিৎসকরা বলছেন, উপজেলায় এডিস মশার উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। মশা নিধন করা না হলে সামনে আক্রান্তের হার আরও বাড়বে।

এদিকে করোনার মধ্যে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় কর্ণফুলীর সর্বত্রই আতঙ্ক বিরাজ করছে। আবহাওয়ার বৈরী আচরণে এমনিতেই ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি হানা দিচ্ছে, তারওপর ডেঙ্গুর প্রকোপে বাড়ছে উৎকণ্ঠা। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তের নমুনা পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

আরও পড়ুন: করোনার সঙ্গে ডেঙ্গু শঙ্কায় চট্টগ্রাম শহর, ১৫ স্পটে মিলেছে এডিস লার্ভা

জানতে চাইলে পটিয়া স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সব্যসাচী নাথ আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, কর্ণফুলী উপজেলায় একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ওনার কাছে সব তথ্য থাকবে। আমার কাছে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া রোগীর তথ্য নেই।

যোগাযোগ করা হলে কর্ণফুলীতে দায়িত্বরত ডা. নওশাদ হোসেন বলেন, ডেঙ্গু রোগীর কোনো তথ্য আমার কাছে নেই। মাসখানেক আগে একজন ম্যালেরিয়া রোগী ছিল। কর্ণফুলী উপজেলার কোনো ডেঙ্গু রোগীর তথ্য আমার কাছে নেই।

এসআই/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm