চট্টগ্রাম মেডিকেলে ইন্টার্ন ডাক্তারদের তাণ্ডব—ওয়ার্ডবয়কে মারধর, অন্তঃসত্ত্বা নার্সকে ধাক্কা

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে অন্তঃসত্ত্বা নার্স ও ওয়ার্ড বয়কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইন্টার্ন ডাক্তারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে নার্স অ্যাসোসিয়েশন।

মঙ্গলবার (৭ জুন) বিকেল ৪টায় ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন চমেক হাসপাতালের নার্স অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি আশু চৌধুরী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মেডিকেলের মেইন গেটের সামনে নার্সরা অবস্থান নেন। এসময় তারা অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। 

আরও পড়ুন: রোগী দেখতে গিয়ে এক বছরের জন্য জেলে যেতে হলো ডাক্তারকে

Yakub Group

এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ওয়ার্ড বয় অভিযোগ করে বলেন, ‘এমবিবিএস পঞ্চম বর্ষের চারজন ইন্টার্ন ডাক্তার তাদের এক রোগীকে প্লাস্টার করাতে আসেন। এসময় ওয়ার্ডের ব্রাদার আব্দুল্লাহিল কাফি রেজিস্টারে নথিভুক্ত করতে রোগীর নাম ও মোবাইল নম্বর জানতে চান। প্রথমবার বললে তা অস্পষ্ট শোনায় ব্রাদার আরেকবার জিজ্ঞাসা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্ররা ব্রাদার আবদুল্লাহর শার্টের কলার চেপে ধরেন। এসময় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা সিনিয়র স্টাফ নার্স আকলিমা আক্তার প্রতিবাদ করলে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় এক আনসার সদস্যও মারধরের শিকার হন। মারধরের কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, এক কথা দুবার বলতে পারব না।

অবস্থান কর্মসূচিতে এক নার্স বলেন, ঘটনা জেনে আমরা দ্রুত ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ছুটে যাই। ডাক্তাররা মিটিং করছে জেনে আমরা বাইরে অপেক্ষা করতে থাকি। তাদের একজন প্রতিনিধি আসছিল বিষয়টি সমাধান করতে। এসময় আরেকজন এসে আমার কলার চেপে ধরে বলেন, আমাকে চিনিস? আমি ছাত্রলীগ নেতা। আরও বলেন, চোখ নামিয়ে কথা বল। তারপর আমাকে মারধর করে। পরে আমাদের সভাপতিকে কল করে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসি। আমরা কর্তব্যরত অবস্থায় আমাদের গায়ে হাত তোলে তারা।

সীতাকুণ্ডে আহত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে নার্সরা জানান, এই কারণে আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে পারছি না। ওয়ার্ডে তাদের চিকিৎসাসেবা চলমান রয়েছে। 

আরও পড়ুন: হাসপাতালে অবহেলায় শিশুর মৃত্যু, শিশুর মা—বাবাকে পিটিয়ে মামলা খেল ৫ ডাক্তার

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হামলায় জড়িতরা হলেন- ৫৮তম এমবিবিএস ব্যাচের ডা. ইমন শিকদার, তৌফিকুর রহমান ইয়ুন, ডা. কেএম তানভীর, ৬০তম এমবিবিএস ব্যাচের অভিজিৎ দাশ, ৩১তম বিডিএস ব্যাচের হৃদয়, ৬৩তম এমবিবিএস ব্যাচের জাকি আল হাসান ও  ২৭তম বিডিএস ব্যাচের ডা. জয় দে।

ঘটনার সময় ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়,  অভিযুক্ত ইমন সিকদার নার্সদের সঙ্গে তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতি করছেন। এ বিষয়ে জানতে ইমন সিকদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোনকল কেটে দেন।

আরএস/আরবি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm