টিকটক ফাঁদ—ধর্মান্তরিত হয়েও সুখে নেই পিংকি, কপালে জুটল ৪ সতীনের ঘর

বছরখানেক আগে টিকটকের মাধ্যমে সুমনের সঙ্গে পরিচয় হয় পিংকি রানী দে’র। পরে দেখা ও আলাপচারিতার মাধ্যমে তাদের মধ্যে গড়ে উঠে গভীর প্রেমের সম্পর্ক। এরপর ধর্ম পরিবর্তন করে সুমনকে বিয়ে করে পিংকি হয়ে যান ইসরাজ জাহান তোহা। কিন্তু ধর্ম বদলে ও পরিবার-পরিজন ছেড়ে আসা তোহার আর সংসার করা হলো না সুমনর সঙ্গে।

বিয়ের পর ধীরে ধীরে ধরা পড়তে থাকে সুমনের আসল রূপ । তোহা ছাড়াও সুমনের রয়েছে আরও চার স্ত্রী । এসব জানতে পেরে শ্বশুরবাড়িতে তুলতে চাপ দেন তোহা। একপর্যায়ে নগরের জঙ্গীশাহ মাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় তোহাকে তুলে দিয়ে পালিয়ে যান সুমন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বায়েজিদ এলাকার মোহাম্মদনগর বাস্তুহারা কলোনিতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় তাঁকে খুঁজে পাওয়া।

আরও পড়ুন: টিকটকার ৩ বোনকে দেওয়া হলো দাদির জিম্মায়

এরপর সেখানে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় তোলা হয় তোহাকে। তোহার ওপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। দফায় দফায় তাঁকে মারধর করতে থাকে সুমন। একপর্যায়ে সুমনের দ্বিতীয় স্ত্রীর মা হোসনে আরা বেগম ও শালা আজাদ মিয়াসহ তোহাকে খুনের পরিকল্পনা করেন সুমন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ইফতারে শরবতের সঙ্গে তোহাকে খাওয়ানো হয় বিষ। এসময় তোহা অজ্ঞান হয়ে গেলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায় সুমন। পরে এ ঘটনায় থানায় মামলা না নিলে আদালতে আইনের আশ্রয় নেয় তোহা। স্বামী ফজলুল করিম সুমনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মোহাম্মদ অলি উল্লাহর আদালতে তোহার পক্ষে মামলাটি করেন আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ।

এদিকে আদালত মামলাটি গ্রহণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসিকে মামলার তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবি অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, টিকটিক করতে গিয়ে সমাজে যেসব অনাচার হচ্ছে এই ঘটনা তারই নিকৃষ্ট একটি উদাহরণ। সহজ-সরল নারীদের টিকটকের নামে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের নামে নির্যাতনের এমন চিত্র আরও অনেক আছে। একজন নারীকে ধর্মান্তরিত করে পবিত্র রমজানের দিনে ইফতারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে হত্যাচেষ্টার বিষয়টি ভুক্তভোগী নারীর মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতের নজরে আনা হয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নারী এমন প্রতারণার ফাঁদে না পড়েন।

আরও পড়ুন: ‘কিশোর গ্যাং’—লকডাউনেও দলবেঁধে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ‘টিকটকার সেজে’

ভুক্তভোগী ইসরাজ জাহান তোহা আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, বছরখানেক আগে টিকটকের মাধ্যমে সুমনের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। পরে আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর আমি ধর্ম পরিবর্তন করে সুমনকে বিয়ে করি। বিয়ের পর সুমনের আসল রূপে আমার কাছে প্রকাশ পায়। আমিসহ তার চারজন স্ত্রী রয়েছে। এসব বুঝতে পেরে আমাকে শ্বশুরবাড়িতে তোলার জন্য চাপ দিলে জঙ্গীশাহ মাজার এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় আমাকে তুলে দিয়ে সে পালিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর পরে বায়েজিদ এলাকার মোহাম্মদনগর বাস্তুহারা কলোনিতে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় সুমনকে খুজে বের করি।

তিনি আরও বলেন, সেখানে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় দ্বিতীয় স্ত্রীর বাসায় তোলা হয়। এরপর আমার ওপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। দফায় দফায় আমাকে মারধর করে সুমন। একপর্যায়ে সুমনের দ্বিতীয় স্ত্রীর মা হোসনে আরা বেগম ও শালা আজাদ মিয়াসহ আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন সুমন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

এএইচ/আরবি

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm