ফেসবুকে ভয়ঙ্কর ফাঁদ, ‘টার্গেট ধনীর দুলাল’—স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা স্বামীর

ফেসবুকে ফাঁদ পেতে ধনীর দুলালদের টার্গেট করেন মিনু আক্তার। ফেসবুকে বিভিন্ন নামে একাধিক আইডি রয়েছে তাঁর। এসব আইডি ব্যবহার করেই ফাঁদ পাতেন মিনু। এরপর টার্গেট করা ধনীর দুলালদের সঙ্গে গড়ে তোলেন সম্পর্ক।

অর্থবিত্তের অবস্থা ভালো হলে বিয়েও করেন। কিন্তু বিয়ের পর পাল্টে যান বহুরূপী মিনু। নানা বাহানা, হুমকি-ধমকি ও মামলার ভয়-ভীতি দেখিয়ে আদায় করেন অর্থ-সম্পদ।

এবার সেই প্রতারক নারীর বিরুদ্ধে মামলা করলেন তাঁর স্বামী! মামলায় আসামি করা হয়েছে মিনুসহ তিনজনকে।

আরও পড়ুন: ‘পরকীয়ায় বাধা’—ক্ষিপ্ত স্ত্রী দড়িতে বেঁধে পেটালেন স্বামীকে, বৌ-ছেলেকে নিয়ে গেল পুলিশ

মিনু আক্তারের বাড়ি রাঙামাটির বাঘাইছড়ি থানার দুর্গম মারিশ্যায়। সেখানকার ৩২ নম্বর বাঘাইছড়ি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ওগলছড়ি এলাকার আলী আহমদের মেয়ে তিনি। তবে মিনুর বর্তমান ঠিকানা বায়েজিদ থানার রুবি গেট হাসিনার মার কলোনি এলাকায়। যদিও তিনি এখন ঢাকায় বসবাস করছেন। এর মধ্যে মিনু আরও একটি বিয়ে করেছেন প্রতারণার আশ্রয়ে।

জানা গেছে, কাতারপ্রবাসী জোরারগঞ্জ থানার ৮ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নুর আলমের ছেলে ইমাম হোসেনের সঙ্গে ফেসুবকে পরিচয় হয় মিনু আক্তারের (৩৬)। পরে মেসেঞ্জারে গড়ে উঠে প্রেমের সম্পর্ক। অবশেষে সেই প্রেম গড়ায় বিয়েতে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ইমাম হোসেন ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে মিনুকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ইমাম জানতে পারেন তাঁর স্ত্রী মিনু বিভিন্ন নামে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থসম্পদ হাতিয়ে নিয়েছেন। এসব জেনেও ইমাম তাঁর স্ত্রীকে বারবার সংসারে ফেরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি ইমাম কাতার চলে যাওয়ার পর মিনু বিভিন্ন সিম ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে প্রতারণা করতে থাকেন। অনেকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেন টাকা।

আরও পড়ুন: তাবিজেও মন গলেনি প্রেমিকার, বৈদ্যকে কোপাতে হাত কাঁপেনি প্রেমিক যুবকের

২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ইমাম হোসেনকে না জানিয়ে ঢাকা গাজীপুর টঙ্গী আলম মার্কেটের দত্তপাড়া এলাকার এসএমএ আউয়ালের ছেলে মোস্তফা জামিলকে (৩৭) বিয়ে করেন মিনু।

দেশের ফেরার পর ২০২১ সালে ২০ আগস্ট ইমাম হোসেন স্ত্রী মিনু আকতারকে বিয়ের কথা জিজ্ঞেস করলে তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।

পরে ইমাম হোসেন নিরুপায় হয়ে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিনু আক্তার, মোস্তাফা জামিল, রাশেদসহ তিনজনকে আসামি করে প্রতারণা মামলা করেন।

এ বিষয়ে জানতে মিনু আক্তারের মোবাইলে একাধিক ফোন করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

চৌধুরী মাহবুব/আরবি
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm