গায়ে জড়ানো ‘লাল’ সরালেই ‘সবুজ চমক’, টসটসে পেয়ারার শেকড় পাহাড়ে

ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই দুর্গম পাহাড় থেকে দলে দলে আসছেন চাষিরা। সবার কাঁধেই বাঁশ দিয়ে তৈরি বিশেষ ভাঁড়। আর সেই ভাঁড়ের দুই প্রান্তে লাল কাপড়ে মোড়ানো পুটলি।

এই পুটলির ভেতরেই আছে বিভিন্ন সাইজের সুস্বাদু পেয়ারা। এগুলোই হলো কাঞ্চননগরের বিখ্যাত পেয়ারা।

চন্দনাইশের দুর্গম পাহাড়ের বিশাল এলাকাজুড়ে এই পেয়ারা বাগানের অবস্থান। এই ভর মৌসুমে প্রতিটি গাছে পেয়ারা আর পেয়ারা। তবে সেখানকার যাতায়াত ব্যবস্থা এখনো আগের মতোই। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পায়ে হেঁটে পৌঁছাতে হয় পেয়ারা বাগানে।

বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) সকাল ৬টায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, লালসালুতে পেয়ারা নিয়ে চাষিদের দুর্গম পাহাড় থেকে আসার চিত্র। এ পেয়ারাগুলো তারা হাটে নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রি করতে।

বাগানের চাষিরা জানান, চন্দনাইশের কয়েকটি পাহাড়ের প্রায় সাড়ে ১২শ’ একর জায়গায় পেয়ারার চাষ করা হয়। প্রায় বিশ হাজার মানুষ এসব বাগানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। প্রতিদিন রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে তারা পাহাড়ে পেয়ারা সংগ্রহ করতে চলে আসেন।

জানা গেছে, কাঞ্চননগরের বাগানের পেয়ারার সুখ্যাতি ও কদর রয়েছে দেশজুড়ে। এই পেয়ারার বড় হাট বসে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে রওশনহাটে। এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় যে কারও চোখে পড়বে দু’পাশজুড়ে লাল কাপড়ে মোড়ানো পেয়ারার সারি সারি ভাঁড়।

কাঞ্চননগরের পেয়ারা চট্টগ্রাম মহানগর, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, ফটিকছড়ি, চকরিয়া, হাটহাজারী, বাঁশখালী, কুমিল্লা, কক্সবাজার, পেকুয়া, টেকনাফ, নোয়াখালীসহ আরও কয়েকটি জেলায় যায়।

এবার পেয়ারার ভালো ফলন হওয়ায় খুশি সেখানকার চাষিরা। তারা জানান, প্রতি ভার পেয়ারা বিক্রি করা হচ্ছে দেড় হাজার থেকে দুই হাজার টাকায়।

পেয়ারাচাষি মো. আলম জানান, ৩০ বছর ধরে পেয়ারার ব্যবসা করছেন। প্রতিদিন রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে পাহাড়ে গিয়ে পেয়ারা সংগ্রহ করেন। পরে সাতসকালে সেই পেয়ারা হাটে নিয়ে যান বিক্রির জন্য।

তিনি আরও জানান, এবার পেয়ারার ফলন ভালো হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে এখানকার পেয়ারা বিদেশে রপ্তানি করে কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।

আরেক পেয়ারাচাষি আকতার বলেন, এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। পেয়ারাচাষিরা কষ্ট করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় বাগান থেকে প্রতিদিন ৭-৮ কিলোমিটার পথ হেঁটে পৌঁছাতে হয় হাটে।

আলোকিত চট্টগ্রাম
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm