জোড়া খুনের ৫ আসামি পুলিশের জালে—৩ জন হাসপাতালে

বাঁশখালীতে বালুমহাল ও জায়গার বিরোধে খুন হয়েছেন চাচা-ভাতিজা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। আহতরা বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এদিকে এ ঘটনায় মামলার পর মূলহোতাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গত বুধবার (২০ অক্টোবর) বেলা ২টায় বাঁশখালীর প্রধান সড়ক মনছুরিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিন প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাত ও হাতুড়িপেটায় চাচা সোলতান মাহমুদ টিপু (৩৮) ও ভাতিজা আব্দুল খালেক (৩৫) মারা যান। এছাড়া এ ঘটনায় মো. কামাল উদ্দিন (৫০), মনজুর (৪৫) ও বাহাদুর (২৭) গুরুতর আহত হন।

আরও পড়ুন: হাতুড়িপেটায় যুবক খুন—রক্তাক্ত ৪ জন হাসপাতালে

অন্যদিকে গ্রেপ্তারের পর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে থানার ভেতর রাসেল নামে একজন বিষপান করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর বাবাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানাতে থানায় এসে বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মো. রাসেল। শীলকূপের মো. ছিদ্দিকের ছেলে রাসেল। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রাসেল এ মামলার ৪ নম্বর আসামি।

এদিকে ঘটনার দিন বুধবার রাতে নিহত আব্দুল খালেকের মা বাদি হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৬ জনের নামে মামলা করেন থানায়। মামলার পর পুলিশ অভিযুক্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে আহত বাহাদুর, মনজুর এবং বিষপান করা মো. রাসেল চাচা-ভাতিজা হত্যা মামলার ১, ২ ও ৪ নম্বর আসামি হিসেবে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন আছেন। এদের প্রত্যেকের বাড়ি বাঁশখালী পৌরসভার দক্ষিণ জলদি গ্রামের রঙ্গিয়াঘোনা এলাকায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও থানা সূত্রে জানা যায়, ভাতিজা আব্দুল খালেক ও চাচা সোলতান মাহমুদ টিপুকে খুনের পর আসামি ছিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর প্রতিবাদে তার ছেলে রাসেল থানায় এসে পুলিশের সামনে বিষপান করেন। বিষপানের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তাকে বাঁশখালী হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে থেকে তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন: বাঁশখালীতে বিজিবি, দুষ্কৃতিকারীদের খুঁজে বের করবে সরকার

স্থানীয়রা জানান, গত বুধবার বেলা ১২টায় রঙ্গিয়াঘোনা এলাকায় কাছিম আলীর ছেলেদের সঙ্গে আব্দুল খালেকের হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ঘটনার দুঘণ্টা পর বাড়ির পাশে মনছুরিয়া বাজার এলাকায় আব্দুল খালেক ও চাচা সোলতান মাহমুদ টিপু গেলে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাদের প্রকাশ্যে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত ও হাতুড়িপেটা করে পালিয়ে যায়।

জানতে চাইলে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামাল উদ্দিন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, জায়গার বিরোধকে কেন্দ্র করে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহত আব্দুল খালেকের মা বাদি হয়ে ১০ জনকে আসামি করেছেন। খুনের ঘটনার মূলহোতাসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ওসি আরও বলেন, মামলার ৪ নম্বর আসামি বিষপান করা মো. রাসেলকে পুলিশ হেফাজতে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, নিহত আব্দুল খালেক বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলা সংগঠনের বাঁশখালী উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি একটি ওষুধ কোম্পানির এমআর হিসেবে চাকরি করতেন। স্থানীয় একটি বালুমহাল ব্যবসায় জড়িত ছিলেন তিনি। তার চাচাও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পৈত্রিক সম্পত্তি ও বালুমহাল নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। এর আগেও একাধিকবার উভয়পক্ষের মধ্যে মারামরি ঘটনা ঘটেছিল।

উজ্জ্বল/আরবি
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm