চট্টগ্রামের রাউজানের চাঞ্চল্যকর শিবলী সাদিক হৃদয় (২০) হত্যা মামলার দুই আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২৭ মে) চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ ড. আজিজ আহমেদ ভূঁঞার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন— অংথোয়াং চিং মারমা প্রকাশ অংথুইচিং মারমা প্রকাশ বাবু মারমা এবং মংশী মারমা প্রকাশ ফুসিং মারমা প্রকাশ মংশে মারমা।
আরও পড়ুন: কলেজছাত্র হৃদয়কে টুকরো করার কথা স্বীকার খুনিদের, শরীরের মাংস খায়নি
জেলা পিপি শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আগে থেকে কারাগারে থাকা দুই আসামির পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। এসময় রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরে জামিনের তীব্র বিরোধিতা করি। আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থিতিতে দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আসামিদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রাউজানের কদলপুর ইউনিয়নের পঞ্চপাড়া গ্রামের পিকআপ ভ্যান চালক মু. শফির ছেলে শিবলী সাদিক হৃদয়। ওই এলাকার একটি খামারে চাকরি করে পড়ালেখার খরচ জোগাতেন তিনি। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট সেই খামার থেকে অপহৃত হন হৃদয়। পরদিন ২৯ আগস্ট ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ চেয়ে ফোনে মা নাহিদা আক্তারের সঙ্গে ছেলে হৃদয়কে কথা বলিয়ে দেন অপহরণকারীরা। পরে সাড়া না পেয়ে ৩১ আগস্ট ফের ফোন করে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। তাদের চাহিদা অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর হৃদয়ের বাবা বান্দরবান জেলা সদরে দুইজন লোককে দাবি করা টাকা দেন। এসময় তারা জানায় হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে অপহরণের ১৪ দিন পর ১১ সেপ্টেম্বর সকালে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের সর্বপূর্বে রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার একটি পাহাড় থেকে হৃদয়ের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলার পর পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরমধ্যে গণপিটুনিতে নিহত হন মামলার প্রধান আসামি উমং চিং মারমা।
আরএস/আরবি


