ছিনতাইয়ের অভয়ারণ্য—সন্ধ্যা হলেই চট্টগ্রামের ৩ এলাকায় ‘আতঙ্ক’

নগরের তিন এলাকা এখন সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য। সন্ধ্যা হলেই এসব এলাকা চলে যায় মাদকাসেবী ও ছিনতাইকারীদের দখলে। আতঙ্ক বিরাজ করা এ তিন এলাকা হলো—ষোলশহর স্টেশন, ২ নম্বর গেট ও মুরাদপুর বন বিভাগ গেট এলাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরে নগরের ২ নম্বর গেট এলাকার বিপ্লব উদ্যান, ষোলশহর স্টেশন গেট ও মুরাদপুর বন বিভাগ গেট এলাকায় বেড়ে গেছে ছিনতাই। সুযোগ বুঝে টার্গেট করা হয় পথচারী ও নিরীহ যাত্রীদের। এরপর ছিনিয়ে নেওয়া হয় মোবাইল, মানিব্যাগসহ সর্বস্ব। সন্ধ্যার পরপরই এখানে তৎপরতা শুরু করে ছিনতাইকারীরা।

স্থানীয়রা জানান, ছিনতাইয়ে জড়িতরা ষোলশহর রেল স্টেশন ও মুরাদপুর বন বিভাগ এলাকায় বসবাস করেন। এদের মধ্যে অনেকে আবার উড়াল সেতুর নিচের রাত কাটিয়ে সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। বিশেষ করে আঁধার নামলেই নেশার টাকার জন্য তারা বেপরোয়া হয়ে উঠে।

আরও পড়ুন: ‘ওঁৎ পেতে ফাঁদ’—ফ্লাইওভারেই, দলবেঁধে ছিনতাই ওদের রুটিন ওয়ার্ক

সূর্যাস্ত হলেই অন্ধকার রাস্তা ও গলিতে ওঁৎ পেতে থাকে মাদকাসক্ত ছিনতাকারীরা। এরপর পথচারী ও যাত্রীদের অস্ত্র ও ছুরির ভয় দেখিয়ে সবকিছু কেড়ে নেয়। এছাড়া যানজটে আটকে থাকা বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদের মোবাইল জানালা দিয়ে ছোঁ মেরে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

Thai Food

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত ২ নম্বর গেট এলাকার ষোলশহর ও মুরাদপুর বন বিভাগ গেটে আড্ডার স্থলে অবস্থান নেয় ছিনতাইকারীরা। সুযোগ বুঝে টার্গেট করা ব্যক্তিকে পথরোধ করে অস্ত্রের ভয় দেখায়। মানিব্যাগ, মোবাইল ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় রাস্তার পাশে নালা দিয়ে। এ কারণে তাদের খুঁজে বের করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ২ নম্বর গেট বিপ্লব উদ্যান, ষোলশহর স্টেশন, মুরাদপুর বন বিভাগ এলাকায় ছিন্নমূল ছেলেদের আড্ডাই বেশি। এদের বেশিরভাগই কিশোর। এক দেখাতেই বুঝতে অসুবিধা হয় না তারা সবাই নেশার সঙ্গে জড়িত। নেশার টাকা যোগাড় করতেই মূলত তারা রাত হলে এলাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ‘পুলিশের সোর্স’—অপরাধী ধরতে গিয়ে বড় অপরাধে জড়াচ্ছে

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পাচঁলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহেদুল কবির আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ওইসব এলাকায় আমাদের নিয়মিত টহল চালু রয়েছে। দু’দিন আগেও দুই ছিনতাইকারীকে ধরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ছিনতাই করার পর তারা নালার ভেতর পালিয়ে যায়। ফলে তাদের ধরা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। আবার এদের মধ্যে অনেকে বয়সে কিশোর। তবে আমরা ছিনতাইয়ের বিষয়ে সবসময় সজাগ দৃষ্টি রাখছি।

আরবি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm