ছাত্রলীগ ‘নেতার কাণ্ড’—২৭ ভরি স্বর্ণ মেরে লুকিয়ে ছিলেন বাসায়, হানা দিল ‘বেরসিক’ পুলিশ

জহিরুল ইসলাম, পাঁচলাইশ থানা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক। কিশোর গ্যাং আর চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম চলে তাঁর নেতৃত্বে। তাঁর ভয়ে মুখ খোলার সাহস করে না। মুখ খুললেই নাকি বিপদ— এমন কথা লোকের মুখে মুখে। আর সেই জহরি শেষমেষ ধরা খেল পাঁচলাইশ থানা পুলিশের হাতে, তাও স্বর্ণ ছিনতাইয়ের মামলায়!

তবে মামলাটি পাঁচলাইশ থানার নয়, পতেঙ্গা থানারই। ধরা পড়ার পর এই জহিরকে ছাড়াতে ‘নেতাদের’ তদবিরে অতিষ্ঠ পুলিশ।

আরও পড়ুন: বেড়াতে গিয়ে—কক্সবাজারে ‘নেতার’ সঙ্গে মদ খেয়ে মারা গেল ছাত্রলীগ কর্মীও

জহির সকাল থেকে সন্ধ্যায় বাইকে দাপিয়ে বেড়ান পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, আতুরার ডিপো, হামজারবাগ, বিবিরহাট থেকে বহদ্দারহাট। তাঁর দলবল দেখে আতঙ্কিত হয়ে উঠেন এসব এলাকার মানুষ। অনেক অত্যাচার নীরবেই সইতেনন এলাকার নিরীহ মানুষ। ২৬ বছরের এই তরুণের বিরুদ্ধে মূলত কেউ মুখ খোলে না ভয়েই।

পতেঙ্গা থানা পুলিশ জানায়, জহিরের বাড়ি ফটিকছড়ি হলেও বসবাস পাঁচলাইশ এলাকায়। জহিরুলের ভগ্নিপতি ফটিকছড়ির মহিউদ্দিন শিকদার। ওমানপ্রবাসী হওয়ার সুবাদে তাঁর সঙ্গে একই এলাকার ফজলুল করিমের ছেলে আবদুল হালিমের সখ্যতা গড়ে উঠে। আবদুল হালিম ২১ সেপ্টেম্বর মহিউদ্দিন শিকদারকে ওমান থেকে দেশে আসার সময় ২৭ ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের বার ও দুটি চুড়ি দেন। এসব স্বর্ণের দাম অন্তত ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকা।

ছাত্রলীগ

কথা ছিল, চট্টগ্রাম শাহ আমানত (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে শুল্কসহ সব ধরনের প্রক্রিয়া শেষে আবদুল হালিমের তালতো মো. হোসেনকে স্বর্ণগুলো বুঝিয়ে দেবে মহিউদ্দিন শিকদার। কিন্তু শাহ আমানত বিমানবন্দরে শুল্ক দেওয়ার পর মো. হোসেনকে স্বর্ণ দেওয়ার কথা বলে স্বর্ণের বার ও চুড়ি নিয়ে পাঁচলাইশ থানা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জহির ও তার বোন রাশেদা বেগম, বোন জামাই মহিউদ্দিন শিকদার, ছেলে ইরফান মাইক্রো নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যান। স্বর্ণের জন্য অপেক্ষারত মো. হোসেন তাদের পলিয়ে যেতে দেখে অটোরিকশা নিয়ে ধাওয়া করলেও তাদের ধরতে পারেননি। মোবাইলে যোগাযোগ করতে গিয়ে দেখেন সুইচ অফ।

উপায় না দেখে মো. হোসেন বাদি হয়ে জহিরুল ইসলাম ও তাঁর বোন রাশেদা বেগম, জামাই মহিউদ্দিন শিকদার ও ছেলে মো. ইরফানকে বাদি করে পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ জহিরের বাসায় হানা দেয়। তাঁকে গ্রেপ্তার করে পতেঙ্গা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

আরও পড়ুন: ‘বিব্রত নেতারা’—ইয়াবাকাণ্ডে জড়িয়ে পদ হারালেন সেই ছাত্রলীগ নেতা

পাঁচলাইশ ও পতেঙ্গা থানা সূত্রে জানা যায়, জহিরকে ধরার পর ছাড়িয়ে নিতে আসে একের পর এক তদবির। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তাঁকে আদালতে তুলে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এসি

1 মন্তব্য
  1. বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বলেছেন

    কোন কোন নেতা তদবির করছে তাদের নাম ও প্রকাশ করা হোক! ধান্দা সফল হলে এরাও ভাগ পাইতো!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm