চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমানের মা সৈয়দুন্নেছা বলেছেন, ছেলে হত্যার ১৩ বছর পার হলেও এখনও বিচার পাইনি।
সোমবার (২১ অক্টোবর) সকালে আবিদের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেয়ার কনফারেন্স হলে আয়োজিত স্মরণসভার তিনি এ কথা বলেন।
স্মরণসভায় সন্তান হত্যার বিচায় চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবিদের মা সৈয়দুন্নেসা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার সন্তান হত্যার বিচার চাই। তিনি সন্ত্রাসীদের বিচার, বিএমডিসি সার্টিফিকেট বাতিলসহ চিহ্নিত খুনিদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের দাবি জানান।
ডা. তৌকির আহমেদের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন।
প্রধান অতিথি বলেন, আবিদ হত্যার বিচারে প্রয়োজনীয় সবধরনের সহায়তা প্রদান করা হবে। আবিদের স্মৃতি ধরে রাখতে কলেজে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে।
আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে ফিল্মি স্টাইলে খুন, কালো গাড়িতে এসেছিল বুড়ির নাতিসহ ৩ যুবক
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দিন। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এতে বক্তব্য রাখেন ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, ডা. ঈসা চৌধুরী, ডা. সারোয়ার আলম, ডা. ইমরোজ উদ্দিন, ডা. মাহমুদুর রহমান, ডা. তানভীর হাবীব তান্না, ডা. আবদুল মতিন, ডা. সাঈফ সোহাগ, ডা. ফরহাদ আহমেদ লিজন, ডা. শাওন আনোয়ার, ডা. সুমন, ডা. মাসুদ আবদুল্লাহ, ডা. শাকির উর রশিদ, ডা. মোনায়েম ফরহাদ, ডা. আসিফ, ডা. ফয়সাল, ডা. সাদ্দাম, ডা. সামিউল, ডা. উল্লাস, ডা. ওবায়েদ, ডা.সাদ্দাম, ডা. মামুন, ডা. মেহেদী, ডা. টিটু ও ডা. ফারজাউল।
সভায় বক্তারা বলেন, ছাত্রদল করার অপরাধে আবিদুর রহমানকে মফিজুর রহমান জুম্মা ও সোহেল পারভেজ সুমনের নেতৃত্বে একদল ছাত্রলীগ ক্যাডার আটক করে তুলে ছাত্র সংসদের টর্চার সেলে নিয়ে যায়। এরপর দ্বিতীয় দফায় হোস্টেল কেন্টিনের সামনে ও তৃতীয় দফায় প্রধান ছাত্রাবাসের বি–২০ নম্বর রুমে নিয়ে তাকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে। পরে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা নগরের সার্জিস্কোপ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবিদ মারা যান।
সহপাঠীদের মধ্যে আবিদের স্মৃতিচারণ করেন ডা. মাসুম, ডা. নাদিম, ডা. সোহাগ, ডা. মাহমুদ ও ডা. আহমদ উল্লাহ চৌধুরী।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান আবিদকে ছাত্রলীগকর্মীরা পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। দুদিন পর (২১ অক্টোবর) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আবিদুরের মামা নেয়ামত উল্লাহ চৌধুরী বাদি হয়ে পাঁচলাইশ থানায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের ভিপি মফিজুর রহমান জুম্মান এবং জিএস হিমেল চাকমাসহ ২২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
আলোকিত চট্টগ্রাম


