চুলে পাক ধরলেও চোখে ছিল সেই স্কুলজীবনের উচ্ছ্বাস

দীর্ঘ ৩৪ বছর পর আবার একসঙ্গে। চুলে পাক ধরলেও চোখে ছিল সেই স্কুলজীবনের উচ্ছ্বাস। বন্ধুত্ব যে সময়ের কাছে হার মানে না, তারই জীবন্ত প্রমাণ হয়ে থাকল এসএসসি ’৯১ চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেডের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন। চট্টগ্রামের বন্ধুদের সম্মিলিত উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই ক্লাবের দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্প্রতি ঐতিহ্যবাহী চিটাগাং ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।

বর্তমানে বিপুলসংখ্যক সদস্য নিয়ে এগিয়ে চলা এই সংগঠনটি কেবল একটি ক্লাব নয়; এটি ৩৪ বছরের স্মৃতি, আবেগ আর নির্ভেজাল বন্ধুত্বের এক দৃঢ় বন্ধন। অনেকের বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি, কেউ কেউ পঞ্চাশ পেরিয়েছেন, তবু একে অপরকে দেখে সবাই ফিরে গেলেন  কৈশোরের সেই দিনগুলোতে।

সকাল ৯টায় সদস্যদের আগমন, গিফট ও কূপন সংগ্রহের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি শুরু হয়। সকাল ১০টায় কোরআন তেলাওয়াত, গীতা পাঠ ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যোগ হয় দেশপ্রেমের আবহ।

এরপর প্রয়াত বন্ধুদের স্মরণে শোক প্রস্তাব উপস্থাপন, মোনাজাত ও নীরবতা পালন করা হয়। সেই মুহূর্তে অনেকের চোখ ছলছল করে ওঠে কারণ বন্ধুত্বের পথচলায় কেউ কেউ আর ফিরে আসেননি।

এরপর স্বেচ্ছাসেবক প্যানেল ও উপদেষ্টা পরিষদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। আহ্বায়ক ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আলো শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বন্ধুত্বের শক্তি, সময়ের মূল্য এবং সবাইকে একত্রে রাখার প্রত্যয়।

তাঁর বক্তব্যের পর শুরু হয় বন্ধুদের স্মৃতিচারণ পর্ব। বহুদিন পর একে অপরের সামনে দাঁড়িয়ে কেউ হারিয়ে যাওয়া স্কুলজীবনের গল্পে ফিরে যান, কেউ আবার নীরবে চোখের কোণে জমে ওঠা অশ্রু লুকিয়ে রাখেন। ছবি তোলা, কাঁধে হাত রেখে আড্ডা আর প্রাণখোলা হাসিতে পুরো মিলনমেলা মুহূর্তেই হয়ে ওঠে স্মৃতির এক জীবন্ত অ্যালবাম; যেখানে সময়ের সব দূরত্ব মুছে যায়।

এরপর শুরু হয় দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক আয়োজন। প্রথম পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন পারভেজ, বিশ্বজিৎ, শেখ মো. শহিদুজ্জামান ও লিংকন। বন্ধু সুজন দেবের মেয়ে অনন্যা দেব প্রাচীরের একক নৃত্য পরিবেশনা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। বান্ধবীদের মধ্যে সংগীত পরিবেশন করেন ফাতেমা জোহরা, ফেন্সি, মৌসুমী ও নিপু।

মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর বিকেলজুড়ে ছিল একের পর এক মনোজ্ঞ পরিবেশনা। রত্নার বিশেষ পারফরম্যান্স, বন্ধু ওসমানের একক গানের সঙ্গে ছিল অতিথি বন্ধু হাসান ফারুকের (জিপিডি) বক্তব্য।

ঢাকা থেকে আসা এসএসসি ’৯১ ব্যাচের খ্যাতিমান শিল্পী উত্তম, হিমেল, সুজন, আসাদ, লিটনসহ অনেকেই তাঁদের কণ্ঠে গানের মায়াজাল ছড়ান। জুনি চাকমার ডুয়েট পারফরম্যান্স ছিল চোখ ধাঁধানো।

বিকেলে পাহাড়ি নৃত্য, একক সংগীত ও বান্ধবীদের বিশেষ পরিবেশনায় পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে বৈচিত্র্যময় ও প্রাণবন্ত। ঢাকার বন্ধু সোনিয়া ববির পারফরম্যান্স, অতিথি শিল্পী সুইটি ও পপির মনমাতানো গানের আসর মিলনমেলার আবেগকে আরও গভীর করে তোলে।

এই বর্ষপূর্তি আয়োজনে সারা বাংলাদেশ থেকে সাড়ে ৮শ বন্ধু রেজিস্ট্রেশন করেন। তাদের প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন। সবচেয়ে বেশি বন্ধু উপস্থিত ছিল চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়া, মিরসরাই ও পটিয়া থেকে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রণকারী সবাইকে টি-শার্ট, আকর্ষণীয় ব্যাগ, চার রঙের স্মরণীয় স্যুভেনির, কলম ও ব্যাজ উপহার দেওয়া হয়।

পুরো অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেন সাখাওয়াত হোসেন ও সাজ্জাদুল ইসলাম চৌধুরী। তত্ত্বাবধানে ছিল গোফরান উদ্দিন, নুরউদ্দিন, মোহাম্মদ ইকবাল শহীদুল ইসলাম, মঈনুল ইসলাম, ইদ্রিস মিয়া, জাহানারা বেবী, সুজন দেব, শামসুন্নাহার, সাখাওয়াত সাজিদ, শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ, রাশেদ মীর, মোহাম্মদ নুরুল আবছার, সৈয়দ মোহাম্মদ খালেদ, রাজেশ চক্রবর্তী, মোহাম্মদ আনোয়ার, মঈনুল আহসান আলী, আহসান জামান, শারমিন সুলতানা, তানজিনা তৃষা, রোজিনা রোজী, অ্যাড. দিলরুবা লিজা, অ্যাড. কানিজ কাউসার রীমা, শিমু চৌধুরী, মোহাম্মদ ফারুক, নোমান সোহেল, মফিজ উল্লাহ, পলাশ বড়ুয়া, আরিফ উল ইসলাম, ডা. মঈনুদ্দীন ইলিয়াস, ব্যারিস্টার এস এম কফিল উদ্দিন ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী কাকলি।

রাতে র‌্যাফেল ড্র এবং প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেনের সমাপ্তি বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পর্দা নামে।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm