‘চুরির হাট’ ইপিজেড টু বিমানবন্দর সড়ক, ভাগ বসান পুলিশের সোর্স

নগরের ইপিজেড-বিমানবন্দর সড়ক। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে দুপাশে চোখে পড়বে ছোট কিছু তেলের দোকান। ভেতরে সামগ্রী বলতে কিছু তেলের ড্রাম আর পাইপ।

ভালো করে লক্ষ্য করলে দোকানের সামনে-ভেতরে দেখা মিলবে অলসভাবে অপেক্ষারত দুই-চারজন লোক। দোকানের সামনে রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা বা যমুনার তেলের ভাউচার এসে দাঁড়ালেই বাড়ে তাদের ব্যস্ততা।

ড্রাম-পাইপ নিয়ে তৎপর হয়ে ওঠেন তারা। ভাউচারের চালক-হেলপারের সহায়তায় শুরু হয় তেল চুরি। অনেকটা তেল সরিয়ে নেওয়ার পর গন্তব্যে ছোটেন ভাউচার চালক। অন্যদিকে সেই চোরাই তেল বিক্রিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ‘দোকানিরা’। তবে শুধু দোকানের ভেতরেই নয়, কোথাও কোথাও খোলা আকাশের নিচেও প্রকাশ্যেই চলে এসব দাহ্য পদার্থের বিকিকিনি।

নগরের ইপিজেড-বিমানবন্দর সড়কের দুপাশে অর্ধশত চোরাই তেলের দোকানে এভাবেই দিনদুপুরে চলে সরকারি তেল চুরি ও বিক্রি। চোরাই তেলের এই অবৈধ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সেখানে গড়ে উঠেছে বড় একটি সিন্ডিকেট। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, নগর গোয়েন্দা পুলিশের বন্দর জোনের এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও পুলিশের একাধিক সোর্স যুক্ত আছেন এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে।

অভিযোগ রয়েছে, এখানকার ৫৫টি চোরাই তেলের দোকানের প্রতিটি থেকে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা চাঁদা তোলেন উজ্জ্বল ও রাজিব নামে পুলিশের সোর্স পরিচয়ধারী দুজন। চোরাই তেল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উজ্জ্বলের মাসোহারা নেওয়ার একটি অডিও বার্তা আলোকিত চট্টগ্রামের হাতে এসেছে। এতে উজ্জ্বলের সঙ্গে এক ব্যবসায়ীর মাসোহারার টাকা নিয়ে দরকষাকষি করতে শোনা যায়৷ ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাঁদার এসব টাকার ভাগ চলে যায় নগর গোয়েন্দা পুলিশের বন্দর জোনের উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুকের পকেটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উজ্জ্বল নগরের বন্দর থানার কলসিদিঘীর পাড় এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। পুলিশের সোর্স পরিচয়ে পুরো এলাকা দাপিয়ে বেড়ান তিনি৷ চোরাই তেলের মাসোহারা তোলার ক্ষেত্রে তার সঙ্গী পুলিশের অপর সোর্স পরিচয়ধারী রাজিব। মূলত এসআই ওমর ফারুকের প্রশ্রয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপকর্ম করে যাচ্ছে তারা, এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিন দেখা যায়, ইপিজেড থানার সালাউদ্দিন গেইট, সিমেন্ট ক্রসিং ও নেভি হাসপাতাল ভিআইপি সড়কে প্রায় ১৫টি এবং বন্দর থানার মাইলের মাথা, বন্দরের বাইপাস সড়ক, পতেঙ্গা থানাসহ বিমানবন্দর সড়কের পাশে রয়েছে প্রায় ৫০টি চোরাই তেলের দোকান। এসব দোকানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন চলে হাজার লিটার চোরাই তেলের রমরমা ব্যবসা।

অভিযোগ রয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা থেকে কেনা তেলের ভাউচারের চালক ও হেলপাররা এসব চোরাই তেল বিক্রির সঙ্গে জড়িত আছেন। চালক-হেলপারদের সহায়তায় চোরাই তেল বিক্রেতারা রাস্তায় থামানো ভাউচার থেকে বড় পাইপের মাধ্যমে অল্পসময়ে নামিয়ে ফেলেন তেল। এসব তেলের মধ্যে রয়েছে কেরোসিন, অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল।

স্থানীয় একাধিক ভাসমান তেল বিক্রেতা জানান, চালকের কাছ থেকে অর্ধেক দামে এসব তেল কিনে নেন তারা।

এভাবে প্রকাশ্যেই চোরাই তেলের ব্যবসার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা দাবি করেন, এ ব্যবসা ধরে রাখতে তাদের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনকে টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে একমাস কেন, একদিনও ব্যবসা করা সম্ভব নয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নিজের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই ওমর ফারুক বলেন, আমার নামে মানুষ শুধু শুধু বদনাম করে। আমি কেন এসব কাজ করতে যাব। আমি কোনো চোরাই তেলের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নই৷ এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

1 মন্তব্য
  1. মোঃসেলিম মিঞা। বলেছেন

    পুলিশ এর আশির্বাদ ছাড়া এমন কাজ বাংলাদেশের কোথাও হতে পারে বলে কে মনে করেরে ভাই ?

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm