চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অস্ত্রের মুখে বিএনপি নেতার বাড়ি থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার মালামাল লুটের ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে আনোয়ারা থানার চাতুরী চৌমুহনী এলাকা ও নগরের হাজারি লেন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. শরীফ।
গ্রেপ্তাররা হলেন— আনোয়ারা উপজেলা সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিলপুর আলী আকবর চেয়ারম্যান বাড়ির মৃত বকশ খানের ছেলে মো. মনির ওরফে সোলাইমান (৪০) এবং একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ধানপুরা গ্রামের মৃত লাল মোহন ধরের ছেলে মৃণাল কান্তি ধর (৬৫)।
মৃণাল নগরের হাজারি লেনের ইকুইটি কোহিনুর গোল্ড মার্কেটের মডার্ন ফেন্সী জুয়েলার্স অ্যান্ড বুলিয়ন নামের স্বর্ণ ব্যবসার মালিক। তিনি আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।
গ্রেপ্তারের পর মৃণালের হেফাজত থেকে ৮ ভরি লুট হওয়া স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২ ভরি ওজনের একটি গলার হার, ১ ভরির দুটি বেসলেট, ৪ ভরির ১০টি চেইন এবং ১ ভরির চারটি কানের দুল।
গত ৩০ জানুয়ারি রাত ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে কর্ণফুলী থানাধীন বৈরাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ বন্দরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধা লেয়াকত আলী চৌধুরী বাড়ির মো. গিয়াস উদ্দিন ওরফে বেলুর (৫০) একতলা বসতবাড়িতে একদল মুখোশধারী ডাকাত হানা দেয়। অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আসা ডাকাতরা বাড়ির বাউন্ডারি ওয়ালের কাঁটাতার কেটে ভেতরে ঢুকে। তারা পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করে এবং নগদ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়।
ওসি মু. শরীফ জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে মো. মনির ওরফে সোলাইমান ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ১০-১২ জন মুখোশধারী অস্ত্রধারী ডাকাত ঘরে ঢুকে আমাদের জিম্মি করে ফেলে। তারা আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। পরে পুরো বাড়ি তছনছ করে টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
জেজে/আলোকিত চট্টগ্রাম
