১১৫ নেতার ‘অনাস্থা’ চট্টগ্রামে নগর ছাত্রলীগ সভাপতি—সম্পাদকের ‘বিতর্কিত’ কর্মকাণ্ডে

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের কাজে সহসভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদমণ্ডলীর সদস্য, উপসম্পাদক, সদস্যসহ ১১৫ নেতা অনাস্থা প্রকাশ করেছেন।

শনিবার (১৪ মে) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো মহানগর ছাত্রলীগের উপদপ্তর সম্পাদক সনেট চক্রবর্ত্তী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের ২ কমিটির বদলে এলো ৪ পাল্টা কমিটি

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আওতাধীন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ। বাংলাদেশের ইতিহাসে সকল আন্দোলন সংগ্রামে মহানগর ছাত্রলীগ বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০১৩ সালের ৩০ অক্টোবর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ঘোষিত ২৪ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোঘণা করা হয়। এই কমিটির অধিকাংশই ছিল বিতর্কিত। এই বিতর্কিত নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে থানা, ওয়ার্ড বিভিন্ন কলেজের নেতৃবৃন্দরা আন্দোলন শুরু করে।

আন্দোলনের একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় কমিটি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক (বদিউজ্জামান সোহাগ ও ছিদ্দিকী নাজমুল আলম) চট্টগ্রামে এসে বিভিন্ন পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করেন এবং ৬ মাসের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কার্যক্রম চালিয়ে পরবর্তীতে নতুন কমিটি গঠন করার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনিকে সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আরেক বহিস্কৃত নেতা জাকারিয়া দস্তগীরকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়। যিনি চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত।

বিবৃতিদাতারা বলেন, মহানগর ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রাম মহানগরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে কোনো প্রকার সমন্বয় এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সভা না করে বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ডের কমিটিগুলো মাদকাসক্ত, অস্ত্রবাজ, বিবাহিত ও বিরোধী দল থেকে আসা ও বিতর্কিতদেরকে দিয়ে একের পর এক কমিটি ঘোষণা করছেন। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে যেকোনো অপ্রীতিকর ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে।

এছাড়া মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বেচ্ছাচারিতামূলক কর্মকাণ্ডে মহানগর ছাত্রলীগের অবস্থা বর্তমানে শোচনীয়। যেখানে বঙ্গকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক। তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কার্যনির্বাহী সভা ডাকেন। সেখানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট মহানগর ছাত্রলীগের কোনো ধরণের কার্যনির্বাহী সভা না ডেকে কোন অদৃশ্য শক্তির বলে এমন অসাংগঠনিক পদক্ষেপ নিচ্ছে তা বোধগম্য নয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এরকম স্বেচ্ছাচারিতামূলক কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে মহানগর ছাত্রলীগের আগামী নেতৃত্ব শূন্যতায় ভুগবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, প্রকৃত ছাত্র এবং সৎ, মেধাবী কর্মী নিয়ে গঠিত ঐক্যবদ্ধ ছাত্রলীগই পারবে জননেত্রী শেখ হাসিনার সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে। অযোগ্য, মাদকাসক্ত ও অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে গঠিত তথাকথিত পকেট কমিটি ছাত্রলীগের ঐক্যকে দিন দিন বিনষ্ট করছে। অনতিবিলম্বে মহানগর ছাত্রলীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে সৎ, মেধাবী ও প্রকৃত ছাত্রদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে এই অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার দাবি জানায়।

আরও পড়ুন: ২০ বছর পর ছাত্রলীগের কমিটি পেল জামালখান—মোহরা

বিবৃতিদাতারা হলেন- সহসভাপতি মিথুন মল্লিক, আব্দুল খালেক, রেজাউল আলম রনি, মহিউদ্দিন মাহি, রোকন উদ্দিন রানা, সরোয়ার উদ্দিন, মো. শাকিল, নাজিম উদ্দিন রাসেল, রাশেদুল করিম, এম কায়সার উদ্দিন ও রাজা মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওয়াহেদ রাসেল, মঈনুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন শাহরিয়ার ইসলাম ও হাসমত আলী রাসেল, আইন বিষয়ক সম্পাদক অসিউর রহমান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. সোহেল, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক দেবাশীষ চক্রবর্ত্তী দেবু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, স্কুল বিষয়ক সম্পাদক আবু জিহাদ সিদ্দিকী, উপসম্পাদক সনেট চক্রবর্ত্তী, ইমরান আলী মাসুদ, মোর্শেদুল ইসলাম, মুনির চৌধুরী, গোলাম মর্তুজা শাকিল রাশেদুল আলম, এসএম হুমায়ুন কবির, রায়হানুল কবির শামীম, নাসির উদ্দিন কুতুবী ও ইসমাইল হোসেন শুভ, সহসম্পাদক শাহেদ মিজান, অরভিন সাকিব ইভান, ওসমান গণি, আবু সায়েম সেতু, সাব্বির সাদেক ও অভি চৌধুরী।

সদস্যরা হলেন- শরিফ আহম্মদ, কায়সার হামিদ, অভিজিৎ দে ঝুমুর, আবু সায়েম, আল মামুন জুয়েল, আব্দুল্লাহ আল রুবেল, নুরুল হক মনির, ফাহাদ আনিস, তানজিরুল হক, সুজয়মান বড়ুয়া জিতু, রিদোয়ানুল কবির সজিব, সৈকত দাশ, সাফফাত বিন আমিন, সাখাওয়াত হোসেন পিয়ারু, বোরহান উদ্দিন গিফারী, মাইমুন ইসলাম রোখন, মাসুদ চৌধুরী, নিপুন চৌধুরী, জাহেদ আলম, সাইদুল আমিন সানি, গাজি আক্কাস, নেওয়াজ খান, ইমতিয়াজ বিরু, রুবেল হাসান, শিবু দাশগুপ্ত, মোস্তফা কামাল, মোসাদ্দেক মওলা সোহরাব, নিউটন দে, ওমর ফারুক সুমন, মোশারফ হোসেন, কাজী শাহরিয়ার তানিক, জালাল আহমদ রানা, সাজিদ মো. সাজ্জাদ, মো. হাসানুল করিম, আমিনুল ইসলাম শাওন, সাইদুল ইসলাম সজীব, আসাদুজ্জামান জেবিন, ইফতেখার উদ্দিন শায়ান ও মোরশেদ আলম বাবলু।

আলোকিত চট্টগ্রাম

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm