চট্টগ্রামে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। গত মাসের চেয়ে চলতি মাসে দ্বিগুণ হয়েছে ডেঙ্গু রোগী। তবে আক্রান্ত বাড়লেও কমেছে মৃত্যু।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে পুরুষ ৫ জন ও নারী ১ জন। বর্তমানে নগরে ও উপজেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৩৬ জন। এর মধ্যে নগরে ১১১ জন এবং উপজেলায় ১২৫ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। দুজনই পুরুষ।
শনিবার (২৪ মে) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশ করা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে কমছে না ডেঙ্গুর প্রকোপ
এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপের মধ্যেই দেখা দিয়েছে ঘরে ঘরে জ্বরের প্রকোপ। এই জ্বরে কাবু শিশুরা। হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারেও বেড়েছে রোগীর চাপ। সামনে বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু রোগী আরও বাড়ার শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। তাই এখন থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।
চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আসাদের মধ্যে অনেকের ডেঙ্গুর উপসর্গ মিলছে। তবে ডেঙ্গু হলেই আতঙ্কিত না হয়ে পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি বছরের মে মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৮৩ জন, এপ্রিলে ৩৩ জন, মার্চে ২২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২৮ জন এবং জানুয়ারিতে ৭০ জন। মোট আক্রান্তের মধ্যে পুরুষ ৩৪ জন, নারী ৬৪ জন এবং শিশু ৩৮ জন। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে জানুয়ারি মাসে ১ জন এবং এপ্রিল মাসে ১ জনসহ মোট ২ জন।
চলতি মে মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৮৩ জনের মধ্যে নগরে ৪০ জন এবং উপজেলায় ৪৩ জন। তবে এ মাসে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত কেউ মারা যায়নি। গত বছর এ মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ১৭ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, গেল বছরের চেয়ে এবার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি।
আরও পড়ুন : ২ মাসে শত ছুঁই ছুঁই, চট্টগ্রামে নগরের চেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী গ্রামে
এদিকে নগরের চেয়ে উপজেলায় বেশি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। সাতকানিয়া, বাঁশখালী, সীতাকুণ্ড— এ তিন উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, উপজেলায় আক্রান্ত ১২৫ জনের মধ্যে লোহাগাড়ায় ৮ জন, সাতকানিয়ায় ১৪ জন, বাঁশখালীতে ৩৪ জন, আনোয়ারায় ১ জন, চন্দনাইশে ৩ জন, পটিয়ায় ৭ জন, বোয়ালখালীতে ৪ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ৬ জন, রাউজানে ৬ জন, ফটিকছড়িতে ৪ জন, হাটহাজারীতে ৩ জন, সীতাকুণ্ডে ২৩ জন, মিরসরাইয়ে ৬ জন, কর্ণফুলীতে ১ জন এবং সন্দ্বীপ উপজেলায় ৫ জন।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, গত মাসের তুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত কিছুটা বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আতঙ্কের কিছু নেই। সামনে বর্ষা মৌসুমে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। ইতিমধ্যে মশক নিধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া আমরা সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছি। সবমিলিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। চিকিৎসকের পরামর্শে ঘরে বসেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হওয়া সম্ভব। বাসা-বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার এবং ফ্রিজের নিচের ট্রেতে জমে থাকা পরিষ্কার ও বদ্ধ পানি এডিস মশার প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র। এছাড়া ঘরবাড়ি ও আশপাশ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব। কারণ রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।
আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগী শহরের চেয়ে গ্রামে বেশি
শিশুদের জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে সিভিল সার্জন বলেন, এটা সিজনাল। গরম ও ঠাণ্ডা মিলে এ সমস্যা তৈরি হচ্ছ। ফলে অনেকে শিশুই জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালে ও চেম্বারে রোগী বেড়েছে। তবে আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই। সপ্তাহখানের মধ্যে অনেকে সুস্থ হয়ে উঠছে। তবে বেশি জ্বরে আক্রান্ত বা অস্বাভাবিক কিছু দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৩১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ২৮৬, নারী ১ হাজার ২৪০ ও শিশু ৭৯২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ২ হাজার ৭৪০ জন নগরের এবং ১ হাজার ৫৭৮ জন উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা হওয়া ৪৫ জনের মধ্যে ২৪ জন নারী, ১৬ জন পুরুষ এবং ৫ জন শিশু।
২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত পাওয়া গেছে অক্টোবরে, ১ হাজার ৪৩০ জন। আর মৃত্যুতে ‘ভয়ঙ্কর’ ছিল নভেম্বর। ওই মাসে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
আলোকিত চট্টগ্রাম


