চট্টগ্রামে ছাত্রলীগে হ-য-ব-র-ল, খুনের মামলার আসামি—অছাত্রদের দখলে কোতোয়ালী কমিটি

কোতোয়ালী থানা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি নিয়ে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। ১৩২ সদস্যের ওই কমিটির অনেকের ছাত্রত্ব নেই। বিয়েও করেছেন কেউ। এমনকি হত্যা মামলার আসামিকেও স্থান দেওয়া হয়েছে কমিটিতে!

অথচ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে বলা হয়েছে— মামলার আসামি, বিবাহিত, অছাত্র, চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ীদের কেউ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসতে পারবে না।

সংগঠনের গঠনতন্ত্রে এসব নির্দেশনা থাকলেও তার তোয়াক্কা করছে না চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।

শনিবার (১৪ মে) সকালে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কোতোয়ালী ছাত্রলীগের কমিটি দেওয়া হয়। ১৩২ সদস্যের কমিটিতে মো. জুনায়েদকে সভাপতি ও মো. মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

Yakub Group

আরও পড়ুন: কোতোয়ালী থানা কমিটি পেল ছাত্রলীগ

জামালখানে ছুরিকাঘাতে নিহত আসকার বিন তারেক ইভান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রুবেল দত্তকে কমিটিতে সহসম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়া ইমরান হোসেন সাজেনকে ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে তিনি বিবাহিত!

এদিকে কোতোয়ালী থানা ছাত্রলীগে জায়গা করে নেওয়া বেশ কয়েকজনের ছাত্রত্ব নেই। আবার অনেকেই করছে চাকরি কিংবা ব্যবসা। এরপরও তাদের বানানে হয়েছে ছাত্রলীগ নেতা।

বিবাহিতের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সদ্য ঘোষিত কমিটির ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন সাজেন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ৬ মাস আগে যখন কমিটি দেওয়ার কথাবার্তা চলছিল তখন একটি পক্ষ দুই-তিনটা ফেইক অ্যাকাউন্ট খুলে। তারা আমার ছবি এডিট করে ওই ফেইক ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলোতে ছাড়ে। এগুলো ছাড়ার পর আমি কোতোয়ালী থানায় জিডিও করেছিলাম। রাজনীতি করতে গেলে পক্ষ-বিপক্ষ থাকবেই। মূলত তারা আমার ইমেজ নষ্ট করার জন্য অনেক কিছু করার চেষ্টা করছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের ২ কমিটির বদলে এলো ৪ পাল্টা কমিটি

তিনি বলেন, আমি বিয়ে করেছি কি-না, তা আপনি খোঁজখবর নিয়ে দেখতে পারেন। আপনার কাছে যারা অভিযোগ করছে তারাই আমার ছবি এডিট করে ফেসবুকে ছেড়েছিল। দোয়া করবেন আমার জন্য।

এ ব্যাপারে জানতে নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমুর মুঠোফোনে একাধিকবার
যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

প্রসঙ্গত, সদ্য ঘোষিত কোতোয়ালী থানা ছাত্রলীগের কমিটিতে মো. জুনায়েদকে সভাপতি ও মো. মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। কমিটিতে সহসভাপতি করা হয়েছে ১৪ জনকে। তারা হলেন— এইচএম আলম বাবু, অর্পণ চক্রবর্তী (১৫নং ওয়ার্ড), ফয়সাল উদ্দিন রাব্বি, আনোয়ারুল ইসলাম জুয়েল (২০নং ওয়ার্ড), তাজউদ্দিন তাজু, জাহিদ হাসান সাইমন (চট্টগ্রাম কলেজ), শেখ শফিউল আজম, মোমিনুল হক সুমন (৩০নং ওয়ার্ড), সাজ্জাদ চৌধুরী, আজাহার উদ্দিন মুন্না (২২নং ওয়ার্ড), অনিন্দ দেব, অনিক দে অন্ত, রিপন ঘোষ (২২নং ওয়ার্ড) ও তন্ময় দাশ রিম্ভ (৩৩নং ওয়ার্ড)।

কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয় ১১ জনকে। ১০ জনকে সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সৌরভ পাল দূর্জয়কে প্রচার সম্পাদক ও মোস্তাকিম তওসীফকে দপ্তর সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে ২২ জনকে সদস্য করা হয়।

এসআই/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm