চট্টগ্রামে করোনা : সুনামি গতিতে বাড়ছে শনাক্ত, হঠাৎ ভীতি ছড়াল মৃত্যুও

চট্টগ্রামে সুনামি গতিতে বাড়ছে করোনা শনাক্ত। একইসঙ্গে হঠাৎ ভীতি ছড়াল মৃত্যুও।

২ মাস ১৬ দিন পর একের অধিক মৃত্যু দেখল চট্টগ্রাম। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা কেড়ে নিয়েছে তিন প্রাণ।

এর আগে গত বছরের ১ নভেম্বর দুজনের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর একের অধিক মৃত্যু হয়নি। সর্বশেষ ১১ জানুয়ারি মারা গিয়েছিলেন একজন।

এদিকে চট্টগ্রামে করোনার শনাক্ত বাড়ছে সুনামি গতিতে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৪২ জনের দেহে পাওয়া গেছে এ ভাইরাস। আক্রান্তদের ৫৯৭ জন নগরের এবং ১৪৫ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।

অথচ গতকাল রোববার পাঁচ মাস পর আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচশ’র ওপরে গিয়েছিল। এর আগের দিন ছিল ২৩৯ জন। ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে যা তিনগুণ ছাড়িয়েছে!

এদিন ১৩ ল্যাবে ২ হাজার ৮৮৩ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। সেই হিসাবে শনাক্তে হার ২৫.৭৪। আগের দিন যা ছিল ২৭.৭৩ শতাংশ।

সোমবার (১৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পাঠানো প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে করোনার ‘ভয়ঙ্কর’ আঘাত, শনাক্ত পৌঁছল নতুন চূড়ায়

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের ল্যাবে ৬৩৮ নমুনা পরীক্ষায় ১১৮ জন, শেভরনে ৪২৫ নমুনায় ৮৪ জন, বিআইটিআইডিতে ৩৪৮ নমুনায় ৬১ জন, এন্টিজেন টেস্টে ৩৩৭ নমুনায় ১৪৬ জন, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ২৫১ নমুনায় ৩৮ জন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ২৩২ নমুনায় ৯৩ জন, ইপিক হেলথ কেয়ারে ১৫৩ নমুনায় ৬০ জন, এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতালে ১৫৩ নমুনায় ১৭ জন, মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে ১৪৩ নমুনায় ২৪ জন, মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ১১৩ নমুনায় ৪২ জন, আরটিআরএলে ৪৭ নমুনায় ৩০ জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ৩৯ নমুনায় ২৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে।

তবে ল্যাবএইডে ৪ নমুনায় কারো করোনা পাওয়া যায়নি।

এছাড়া ভেটেরিনারি ও এনিমেল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ল্যাবে এদিন কোনো নমুনা পরীক্ষা হয়নি।

উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে পটিয়ায় ২৬ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ২০ জন, রাউজানে ১৫ জন, সীতাকুণ্ডে ১৩ জন, ফটিকছড়িতে ১২ জন, হাটহাজারীতে ১১ জর, চন্দনাইশে ১১ জন, সাতকানিয়ায় ১১ জন, বোয়ালখালীতে ৮ জন, আনোয়ারায় ৫ জন, লোহাগাড়ায় ৪ জন, মিরসরাইয়ে ৩ জন, সন্দ্বীপে ৩ জন, বাঁশখালীতে ২ জন এবং কর্ণফুলীতে ১ জনের শরীরে করোনা পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রামে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজার ৭১৯ জন। যাদের ৭৬ হাজার ৭৯১ জন নগরের এবং ২৮ হাজার ৯২৮ জন উপজেলার বাসিন্দা।

মোট মৃত্যু ১ হাজার ৩৩৮। যাদের ৭২৮ জন নগরের এবং ৬১০ জন উপজেলার বাসিন্দা।

ডিসি
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm