চট্টগ্রামে কমল পেঁয়াজের ঝাঁজ, রসুনেও সুবাতাস

দেশের বাজারে পেঁয়াজ-রসুনের সরবরাহ বেড়েছে। এছাড়া ঈদপরবর্তী সময়ে বাজারে পেঁয়াজ-রসুনের চাহিদাও তুলনামূলকভাবে কমেছে। ফলে চট্টগ্রামের বাজারে কমেছে পেঁয়াজ-রসুনের দাম। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বাড়ায় বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ভারতীয় উন্নত জাতের পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩-৫ টাকা কমে ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তুলনামূলক কম উন্নতমানের ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা কেজি। দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৮-১০ টাকা কমে পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা দরে।

নগরের চকবাজার, বহদ্দারহাট, দেওয়ানবাজার, রাহাত্তারপুলসহ বিভিন্ন এলাকার খুচরা বাজারে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় এ চিত্র।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানি করা ভারতীয় উন্নতজাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০-৪৫ টাকায়। যা কোরবানির ঈদের সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৬০-৬৫ টাকায়। এছাড়া খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০-৩৫ টাকা। যা ঈদের সময়ে ৫০-৫৫ টাকা ছিল।

এদিকে খুচরা বাজারে রসুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১১০-১২০ টাকায়। সপ্তাহখানেক আগেও এই রসুন বিক্রি হয়েছিল ১৪০-১৫০ টাকায়।

Yakub Group

খুচরা বাজারে পেঁয়াজ-রসুনের দাম কমায় স্বস্তি দেখা গেছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। চকবাজার এলাকার ক্রেতা মো. জসিম উদ্দিন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, পেঁয়াজ-রসুন হচ্ছে প্রতিদিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। এসব ছাড়া তো আর চলা যায় না। তাই পেঁয়াজের দাম অনেক কমে আসাতে স্বস্তি লাগছে। বাজার করতে এসে অন্তত পেঁয়াজ কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে না। এটা সবার সাধ্যের মধ্যে এসেছে।

রসুনের দামও অনেক কমেছে, তবে এখনো তা অনেক বেশি। এখন রসুন কিনলাম ১১০ টাকা কেজি দরে। অথচ এই রসুন গত কোরবানির ঈদের সময়ে কিনেছিলাম ১৪০ টাকায়। তবে রসুনের দাম পেঁয়াজের দামের মতো আরো নাগালের মধ্যে এলে আরও বেশি ভালো হতো। আশা করছি, আগামীতে রসুনের দাম আরও কমবে— বলেন জসিম উদ্দিন।

দেওয়ানবাজার এলাকার খুচরা বিক্রেতা মামুনুর রহমান আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, বাজারে প্রচুর ভারতীয় পেঁয়াজ ঢুকেছে। ব্যাপক হারে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির ফলে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে। আমরা পাইকারি বাজার থেকে কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পারছি, তাই খুচরা বাজারে আগের তুলনায় কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছি। ঈদের সময়ে যে পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিপ্রতি ৬০-৬৫ টাকা, তা এখন কমে ৪০-৪৫ টাকা। ঈদের পরে চাহিদা কমায় রসুনের দামও কমেছে। সপ্তাহখানেক আগেও রসুন বিক্রি করেছিলাম প্রতি কেজি ১৪০-১৫০ টাকায়। যা এখন বিক্রি করছি ১১০ টাকা।

এ বিষয়ে চাক্তাইয়ের আড়তদার রফিকুল ইসলাম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ঈদের পর থেকে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বেড়েছে। ফলে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি রয়েছে। তাই পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে। এটা আপাতত আর বাড়ার সম্ভাবনা নেই। আবার ঈদ উপলক্ষে রসুনের সরবরাহ বেড়েছিল, তখন চাহিদাও বেশি থাকায় দামও বেশি ছিল। কিন্তু ঈদের পর রসুনের চাহিদা কমে গেছে তাই পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম কমেছে।

দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চাক্তাইয়ের আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আহসান খালেদ আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, পাশের দেশ ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বেড়েছে। ফলে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে গেছে। আবার ঈদপরবর্তী সময়ে সরবরাহের তুলনায় পেঁয়াজের চাহিদা কমেছে। এসব কারণে পাইকারি ও খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে। একই অবস্থা রসুনের ক্ষেত্রেও।

তিনি বলেন, ঈদের পর ভারতীয় উন্নত জাতের পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এটি খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪০ টাকা দরে। একইভাবে পাইকারি ও খুচরা বাজারে রসুনের দামও কমেছে।

এসআই/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm