চট্টগ্রামে বাড়ছে ‘সংকট’, মোটা টাকায়ও মিলছে না আইসিইউ

চট্টগ্রামে করোনা বিশেষায়িত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চলছে শয্যা সঙ্কট। সরকারি হাসপাতালের পর বেসরকারি পর্যায়েও শুরু হয়েছে আইসিইউ শয্যার হাহাকার।

নগরের প্রথমসারির বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে এখন আইসিইউ শয্যার জন্য মোটা টাকার সঙ্গে লাগছে সিরিয়ালও। একটি শূন্য শয্যার জন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর স্বজনরা চালাচ্ছেন জোর তদবির।

সরকারি হাসপাতালের চিত্র আরও করুণ। হাতেগোনা কিছু শয্যা, তা পেতেই লম্বা সিরিয়াল। থাকে উচ্চ পর্যায়ের তদবিরও। যে কারণে অনেকটা বাধ্য হয়েই বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ছুটছেন রোগীর স্বজনরা। কিন্তু সেখানেও এখন রোগীতে পূর্ণ আইসিইউ। তাই দিতে হচ্ছে সিরিয়াল।

জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বাড়ছে মৃত্যু ও শনাক্তের হারও। অনেক করোনা রোগীর ক্ষেত্রে অবস্থার অবনতি হলে লাগছে আইসিইউ শয্যা। কিন্তু চাহিদার তুলনায় শয্যা সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় বিপাকে পড়ছেন রোগীর স্বজনরা।

এমনিতেই বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে রোগী ভর্তি করালে মোটা টাকার বিল গুণতে হয়। তারওপর একাধিক বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ রোগীতে পূর্ণ হওয়ায় অনেকক্ষেত্রে টাকা নিয়ে প্রস্তুত থাকার পরও মিলছে না শয্যা। ‍সিরিয়াল দিয়ে করতে হচ্ছে অপেক্ষা। চলছে তদবিরও। সবমিলিয়ে সরকারি-বেসরকারি, দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের আইসিইউ সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম।

নগরের প্রথমসারির বেসরকারি হাসপাতালগুলোর একটি পার্কভিউ হাসপাতাল। বর্তমানে হাসপাতালটিতে মোট ৮৪ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছেন। তারমধ্যে আইসিইউতে রোগী রয়েছেন ১২ জন।

হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনে হাসপাতালটিতে ভর্তিকৃত অনেক রোগীর অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালটিতে আইসিইউ শয্যা আছে মাত্র ১২টি। ফলে আইসিইউ শয্যার জন্য অপেক্ষারত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রোগী ভর্তি থাকার পরও দৈনিক তিন থেকে চার জন রোগীর স্বজন আইসিইউ শয্যার জন্য অপেক্ষায় থাকছেন৷

শুধু তাই নয়, বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসারত রোগীর স্বজনরাও আইসিইউ শয্যার জন্য পার্কভিউতে যোগাযোগ করছেন। এমন দিনও গেছে, যেদিন একদিনে ১০ থেকে ১৫ জন রোগীর স্বজন আইসিইউ শয্যার জন্য যোগাযোগ করেছেন।

পার্কভিউ হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার তালুকদার জিয়াউর রহমান আলোকিত চট্টগ্রামকে জানান, ২৩ জুলাইয়ের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী পার্কভিউ হাসপাতালে করোনার ৮৪টি কেবিনেই রোগী ভর্তি রয়েছে। কোনো কেবিনই খালি নেই। ভর্তির আশায় অপেক্ষায় রয়েছেন আরও ১৫ জন করোনা রোগী। এছাড়া ১২টি আইসিইউ বেডের মধ্যে একটিও খালি নেই। এরমধ্যেই দৈনিক ১০ থেকে ১৫ জন রোগীর স্বজন আইসিইউ বেডের জন্য যোগাযোগ করছেন৷

নগরের প্রথমসারির অপর একটি বেসরকারি হাসপাতাল ম্যাক্স হসপিটালের আইসিইউও এখন রোগীতে পূর্ণ। এ হাসপাতালেও আইসিইউতে রোগী ভর্তি করাতে চলছে জোর তদবির। লাগছে সিরিয়ালও।

আরও পড়ুন: কঠোর বিধিনিষেধ : ৭ ‘নিষেধাজ্ঞা’, ছাড় ৮ খাতে, ৯ নির্দেশনা

এ বিষয়ে ম্যাক্স হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার রঞ্জন প্রসাদ দাশগুপ্ত আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আমাদের হাসপাতালে ৬৭টি কেবিন রয়েছেন। রোগী ভর্তি রয়েছে ৬৯ জন। তারমধ্যে ১০ জন রোগী আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া চার থেকে পাঁচ জন রোগীর স্বজন আইসিইউতে ভর্তির জন্য যোগাযোগ করছেন।

নগরের অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে ডেলটা হাসপাতাল, ন্যাশনাল হাসপাতাল, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, মেডিকেল সেন্টার ও এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতালেও করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব হাসপাতালেও রোগীর সংখ্যা দীর্ঘ হচ্ছে আইসিইউতে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৩ জুলাই) আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের ১ হাজার ২৬২ নমুনা পরীক্ষায় ৪৫১ জনের করোনা শনাক্তের খবর জানিয়েছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়। এর মধ্যে ২৩৭ জন নগরের এবং ২১৪ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।

এদিন চট্টগ্রামে করোনা শনাক্তের হার ছিল ৩৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। একইসময়ে মারা গেছেন নগরের ৬ জন করোনা রোগী।

চট্টগ্রামে এ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮৬৮ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর। অন্যদিকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের মোট ৭৪ হাজার ২৬১ নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এদিকে সারাদেশে শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। যা চলবে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত।

দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরআগে ১ জুলাই থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত একই কারণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সেসময় মার্কেট-গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও খোলা ছিল গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানা।

পরে ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করে সরকার।

শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সারাদেশে আবার শুরু হয় কঠোর বিধিনিষেধ। এবারের বিধিনিষেধ চলাকালে গার্মেন্টস ও শিল্প কারখানাও বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এবারের কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালে ছয়টি খাত পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের বিষয়টি মাথায় রেখে ছাড় দেওয়া হয়েছে আটটি ক্ষেত্রে। এছাড়া বিধিনিষেধ সংশ্লিষ্ট নয়টি বিশেষ নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে।

সিএম/জেডএইচ

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm