চকরিয়ায় ২ খুন, নেপথ্যে পূর্বশত্রুতা

কক্সবাজারের চকরিয়ায় পৃথক ঘটনায় দুইজন খুন হয়েছেন। দুটি খুনের ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে ‘পূর্বশত্রুতা’। এর মধ্যে একজনকে অপহরণের পর খুন করে লাশ ফেলে দেওয়া হয় রাস্তার ধারে। আরেকজন খুন হন জমির বিরোধ নিয়ে দুই ভাইয়ের ঝগড়া চলাকালে ভাইপোর ছুরিকাঘাতে।

শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে চকরিয়া পৌরশহর ও বদরখালী ইউনিয়ন থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও পরিবার সূত্র জানায়, আজ সকাল ১১টার দিকে উপজেলার উপকূলীয় বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামে অটোরিকশা চালক হারুনুর রশীদ ও তার বড় ভাই শেখ আহমদের মধ্যে জায়গার বিরোধ নিয়ে তুমুল ঝগড়া হচ্ছিল। এ সময় শেখ আহমদের ছেলে সন্ত্রাসী খোকা চাচা হারুনুর রশীদকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত হারুনুর রশীদ (৪৫) ফুলতলা গ্রামের ছাবের আহমদের ছেলে। এই ঘটনার পর থেকে বড় ভাই শেখ আহমদ ও তার ছেলে খোকা পালিয়ে গেছে।

এদিকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দুইটার দিকে গিয়াস উদ্দিন (৪৫) নামের ইজিবাইক (টমটম) গ্যারেজের মালিককে অপহরণের পর পিটিয়ে খুন করা হয়। এরপর লাশ ফেলে দেওয়া হয় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার মাতামুহুরী সেতুর কাছে রাস্তার ধারে। শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে স্থানীয়রাই লাশ দেখতে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

অপহরণের পর খুনের শিকার গিয়াস উদ্দিন উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের দিঘীর পাড়ের গোলাম কাদেরের ছেলে।

গ্যারেজ মালিক গিয়াস উদ্দিনের পরিবার জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে স্থানীয় মিন্টুসহ মোটরসাইকেলে চিরিঙ্গা পৌরশহরে যান গিয়াস উদ্দিন। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা প্রতিপক্ষ তৌহিদের নেতৃত্বে পাঁচজন মিলে প্রাইভেট কার নিয়ে মাতামুহুরী সেতু এলাকায় মোটরসাইকেলকে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় কার থেকে তৌহিদেরা নেমে মোটরসাইকেল আরোহী মিন্টুকে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে দূরে দাঁড় করিয়ে রাখে। এরপর গিয়াস উদ্দিনকে কারে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় ‎মিন্টু ঘটনাস্থল থেকে বিষয়টি গিয়াসের পরিবারকে জানায়।

নিহতের স্ত্রী জান্নাতুল নাঈম বলেন, আমার স্বামীকে অপহরণের বিষয়টি স্থানীয় লোকজনকে জানানোর পরে থানায় অবহিত করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করে। শনিবার ভোরে মহাসড়কের মাতামুহুরী সেতু এলাকা থেকে আমার স্বামীর লাশ উদ্ধার করে চকরিয়া থানার পুলিশ।

গিয়াস উদ্দিনের মা আনোয়ারা বেগম জানান, স্থানীয় দিঘীর পাড়ে আমার ছেলের টমটম চার্জিং স্টেশন রয়েছে। এখানে যেসব গাড়ি চার্জ দিতে আসে তাদেরকে টার্গেট করে আসছিল চকরিয়া পৌরসভার করাইয়াঘোনা থেকে আমাদের এলাকায় এসে নতুন বাড়ি করা সন্ত্রাসী ও গরুচোর খ্যাত তৌহিদ। সে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করতে উঠতি বয়সের টোকাই ছেলেদের নিয়ে গ্যাং তৈরি করে। সেই গ্যাং দিয়ে গরু চুরি, মানুষের বাড়িঘরে ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম করে আসছিল তৌহিদ। এ নিয়ে প্রায়সময় প্রতিবাদ করে আসছিল আমার ছেলে গিয়াস। এর আগেও তৌহিদের নেতৃত্বে গ্যাংটি আমার ছেলের ওপর হামলা করেছিল। সেই ঘটনায় থানায় মামলা করলে ক্ষিপ্ত হন তৌহিদ। এর জের ধরে গিয়াসকে অপহরণের পর খুন করে লাশ মাতামুহুরী সেতুর কাছে ফেলে যায়।

যোগাযোগ করা হলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, পূর্বশত্রুতা ও জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। টমটম গ্যারেজ মালিককে ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাতের মাধ্যমে খুন করা হয়েছে। অপরদিকে বদরখালীতে ভাতিজা আপন চাচাকে ছুরিকাঘাতে খুন করেছে।

ওসি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ দুটি উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। পৃথক এসব খুনের ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল মাঠে রয়েছে।

এমকেডি/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm