চকবাজারে আলো-আঁধারি রেস্টুরেন্টে গোপন ক্যামেরা—কনডম!

নগরের চকবাজারে দিনের আলোয় রাতের আনন্দ দেওয়া রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে বেরিয়ে এসেছে থলের বিড়াল। মিলেছে নানা অসামাজিক কার্যকলাপের প্রমাণ।

রেস্টুরেন্টের ভেতর পাওয়া গেছে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ‘কনডম’ , মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ গোপন ক্যামেরা! এসব দেখে রীতিমত হতবাক ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। বিভিন্ন অনিয়ম ও অপরাধে ওই রেস্টুরেন্টকে করা হয় সিলগালা। এছাড়া অর্ধলাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি এক কর্মচারীকে আটক করা হয়।

বুধবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় নগরের গুলজার মোড়ের বিপরীত পাশে কফি ম্যাক্স নামের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফয়েজ উল্যাহ। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান ও রানা দেবনাথ।

গত ৮ মে আলোকিত চট্টগ্রামে ‘দিনের আলোয় রাতের আনন্দ দেয় নগরের যেসব রেস্টুরেন্ট’ শিরোনামে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

এদিকে আটক কর্মচারীর নাম মো. সোহেল। তিনি কফি ম্যাক্স চাইনিজ রেস্টুরেন্টের তত্ত্বাবধায়ক। ট্রেড লাইসেন্স অনুযায়ী রেস্টুরেন্টটির মালিক মো. নজরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন : দিনের আলোয় রাতের আনন্দ দেয় নগরের যেসব রেস্টুরেন্ট

জানা যায়, অভিযানে কফি ম্যাক্স চাইনিজ রেস্টুরেন্টে অসামাজিক কার্যকলাপের বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া গেছে। ভেতরে রয়েছে ছোট ছোট খুপড়ি ঘর। যেখানে বসে অবাধে মেলামেশা করা যায়। এছাড়া এখানে বাল্বের মতো গোপন সিসি ক্যামেরাও রয়েছে। যার মধ্যে মেমোরি কার্ড লাগানো ছিল। তবে রান্নাবান্নার কোনো ব্যবস্থা নেই। অর্ডার করলে বাইরে থেকে খাবার এনে দেওয়া হয়। শুধু এটি নয়, একই এলাকায় আরও বেশ কয়েকটি আলো আঁধারির রেস্টুরেন্ট চলছে এভাবেই।

আটক সোহেল অসামাজিক কার্যকলাপের কথা স্বীকার করে বলেন, এখানে স্কুল-কলেজের ছেলে-মেয়েরা বেশি আসে। তবে ক্রেতারা সঙ্গে কী আনে-না আনে এগুলো খেয়াল করি না।

এদিকে একই এলাকায় রান্নাঘরে নোংরা পরিবেশ, বাসি মাংস সংরক্ষণ ও ফ্রিজে তেলাপোকা পাওয়ায় দাবা রেস্টুরেন্টকে ১ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি সিলগালা করা হয়।

এ বিষয়ে উপপরিচালক মো. ফয়েজ উল্যাহ আলোকিত চট্টগ্রাম বলেন, চকবাজারের রেস্টুরেন্ট নিয়ে একটি প্রতিবেদন আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা কফি ম্যাক্স নামের চাইনিজ রেস্টুরেন্টে পরিবেশ দেখতে আসি। ঢুকেই দেখলাম দুটি মাত্র ডিম লাইট জ্বলছে। একবারে আলো-আঁধারি পরিবেশ। এছাড়া এই রেস্টুরেন্ট থেকে আমরা অসামাজিক কার্যক্রমের উপকরণ পেয়েছি। একটি গোপন ক্যামেরার সন্ধান পাই। পরে সেটির মোমোরি কার্ড জব্দ করি। রেস্টুরেন্টে তত্ত্বাবধায়ক সোহেল শুরুতে সবকিছু অস্বীকার করলেও পরে অসামাজিক কার্যকলাপের কথা স্বীকার করেন। বিভিন্ন অনিয়মের অপরাধে রেস্টুরেন্টটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা পাশাপাশি সিলগালা করা হয়েছে। এছাড়া সোহেলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একই অভিযানে দাবা রেস্টুরেন্টকে ১ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি সিলগালা করা হয়েছে। সেখানে রান্নাঘরে নোংরা পরিবেশ, বাসি মাংস সংরক্ষণ ও ফ্রিজে তেলাপোকা পাওয়া গেছে।

আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!