‘গৃহবধূকে’ ১০ মাস ধরে একের পর এক ধর্ষণ, লজ্জায় নবজাতক ফেলে পালালেন মা

অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ১০ মাস ধরে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ করছিলেন মুদি দোকানি। ধর্ষণের কারণে গর্ভবর্তী হওয়া ওই গৃহবধূ সম্প্রতি স্থানীয় হাসপাতালে এক সন্তানের জন্ম দেন। তবে লোকলজ্জার ভয়ে সেই সন্তানকে হাসপাতালে রেখেই পালিয়ে যান গৃহবধূ।

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে বাঁশখালী পৌরসভায় উত্তর জলদী বড়ুয়াপাড়া গ্রামে। তবে অভিযুক্ত সেই ধর্ষকের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত ধর্ষকের নাম খোকন বড়ুয়া। তিনি একজন মুদি দোকানদার।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সন্তান জন্মের পর গৃহবধূ পালিয়ে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাঁশখালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সোমবার (২ আগস্ট) রাতে গৃহবধূকে খুঁজে হাসপাতালে এনে তাঁর হাতে সন্তান বুঝিয়ে দেন। কিন্তু লোকলজ্জা এড়াতে মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) অন্য এক দম্পতির কাছে সন্তান দত্তক দিয়ে দেন ওই গৃহবধূ।

স্থানীয়রা জানান, ধর্ষিতা গৃহবধূর স্বামী আট বছর আগে মালয়েশিয়া যান। বিদেশে বসবাস করলেও দেশে তেমন টাকা-পয়সা পাঠাতে পারেন না। বিভিন্ন এনজিও থেকে ধারদেনা নিয়ে সংসার চালাতে হয় স্ত্রীকে। পরিবারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বেড়ার ঘরেই তাদের বসবাস।

ধর্ষিত গৃহবধূ বলেন, প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় মুদি দোকানদার খোকন বড়ুয়ার কাছ থেকে ৩৬ হাজার টাকা ঋণ নিই। এরপর থেকে তিনি আমাকে নানা প্রলোভনে বিভিন্ন সময় চাপের মুখে দোকানে এবং ঘরে এসে ১০ মাস ধরে ধর্ষণ করেছেন। এ নিয়ে আমাকে বিভিন্ন সময় ভয়-ভীতি দেখাত। এরমধ্যে আমি গর্ভবর্তী হওয়ার কথা জানালে তিনি সন্তান নষ্ট করে ফেলতে চাপ দেন।

আরও পড়ুন: ‘১০ যুবকের কাণ্ড’ চলন্ত বাসে তরুণীকে একের পর এক ধর্ষণ

ওই গৃহবধূ আরও বলেন, গত রোববার (১ আগস্ট) বাঁশখালী হাসপাতালে রাত ৯টায় সন্তান প্রসব করি। লোকলজ্জার ভয়ে সন্তানকে হাসপাতালে রেখে বাড়ি চলে আসি। পরে পুলিশ আমাকে হাসপাতালে নিয়ে সন্তান বুঝিয়ে দেয়। এরপর দত্তক হিসেবে সন্তানকে অন্যজনের কাছে দিয়ে আসি।

বাঁশখালী হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শফিউর রহমান মজুমদার আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, হাসপাতালে গৃহবধূর সন্তান ফেলে পালিয়ে যাওয়ার পর থানায় জিডি করা হয়। জিডির পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের সহায়তায় সন্তানটি আবার মায়ের কাছে সোমবার রাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাঁশখালী পৌরসভার কাউন্সিলর তপন বড়ুয়া বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সমরঞ্জন বড়ুয়ার সহযোগিতায় লোহাগাড়া উপজেলার পুঁটিবিলা গ্রামের ইতালি প্রবাসী সুমন বড়ুয়ার স্ত্রী কণিকা বড়ুয়াকে ওই সন্তান দত্তক হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে সন্তান দত্তক নেওয়ার বিষয়টি আলোকিত চট্টগ্রামের কাছে স্বীকার করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সমরঞ্জন বড়ুয়া দত্ত।

বাঁশখালী থানার এস আই মো. মাসুদ বলেন, আট বছর ধরে বিদেশে থাকা প্রবাসী স্ত্রীর সন্তান প্রসবের ঘটনাটি কলঙ্কজনক হওয়ায় সন্তান রেখে দরিদ্র গৃহবধূ হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়। পরে গৃহবধূকে তাঁর সন্তান বুঝিয়ে দেওয়া হয়। গৃহবধূ লিখিত কোনো অভিযোগ না করায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুদি দোকানি খোকন বড়ুয়া। তিনি আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ‘আমার সাথে ওই গৃহবধূর কোনো যোগাযোগ ও সম্পর্ক ছিল না। অনেক পুরুষের সাথে তার মেলামেশা রয়েছে। নিজের অপকর্মের চরিত্র ঢাকতে গিয়ে আমাকে দোষী করা হচ্ছে।

উজ্জ্বল/আরবি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm