‘গাড়ি চুরি’ অভিযোগ পেয়ে ৯ ঘণ্টা মাঠে দৌড়ল পুলিশ, উদ্ধারের পর জানা গেল ‘আরেক নাটক’

নগরের কাজীর দেউড়ির লাইক রেস্টুরেন্টে পার্কিং থেকে চুরি হয়ে যাওয়া গাড়ি ৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে কোতোয়ালী পুলিশ। একই পার্কিং থেকে একই মডেলের পরিত্যক্ত অবস্থায় অন্য এক গাড়ির সূত্র ধরে মিলে চুরি হয়ে যাওয়া গাড়ির সন্ধান।

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুল কবির। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রেডিসন ব্লু এর বিপরীতে নৌবাহিনীর গাড়ি পার্কিংয়ে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

চুরি হয়ে যাওয়া গাড়ির মালিক মো. মহিউদ্দিন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে কাজীর দেউড়িতে পরিবার নিয়ে লাইক রেস্টুরেন্টে খেতে বসার আগে পাশের পার্কিংয়ে গাড়ি পার্কিং করি। রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে দেখি আমার টয়োটা এক্স করোলা মডেলের সিলভার কালার কারটি (চট্টমেট্টো গ ১১-১৯৭৫) পার্কিংয়ে নেই। কোতোয়ালী থানায় গিয়ে জানালে, সকালে আমার গাড়িটি পার্কিংয়ের একই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে জানতে পারি সাফায়েত হোসেন নামে এক ছেলের গাড়িও একই মডেলের হওয়াতে সে বুঝতে না পেরে আমার গাড়িটি নিয়ে যায়।

সাফায়েতের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, তাঁর নিত্যদিনের ব্যবহারের গাড়ি বাসায় রেখে পারিবারিক গাড়ি নিয়ে সে কাজির দেউড়িতে আসে। যার কারণে এ গাড়ির তেমন কিছু তার আয়ত্বে নেই। এর ফলে পাশাপাশি দুটি একই মডেলের গাড়ি থাকার কারণে সে নিজেও বুঝতে পারেনি। তাছাড়া চাবি আমার পকেটে থাকলেও তার গাড়ির চাবি আমার গাড়িতে অ্যাডজাস্ট হয়ে যাওয়ায় সে বিষয়টি বুঝতে পারেনি। এতে সে গাড়িটি তার বাসায় নিয়ে যায়। পরে কথার মাধ্যমে পরিচয়ও হয়ে গেছে। সে আমার ছেলের স্কুলের ছোট ভাই হয়।

Yakub Group

যোগাযোগ করা হলে কোতোয়ালী থানার ওসি জাহেদুল কবির আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, লাইক রেস্টুরেন্টে পার্কিং এরিয়া থেকে প্রাইভেট কার চুরির ঘটনায় মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করি। ঘটনাস্থলে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখি, সকাল ৬টার দিকে পার্কিংয়ে একই মডেলের অন্য একটি গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। গাড়িটির ভেতরে থাকা মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করলে চুরি হয়ে যাওয়া গাড়িটির সন্ধান মিলে।

তিনি বলেন, সেই ফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে সাফায়েত হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন ‘রাতে ভুলবশত আমার প্রাইভেট কার (চট্টমেট্রো গ-ম ১১-৯৪০০)-এর পরিবর্তে একই মডেলের অন্য এক গাড়ি (চট্টমেট্রো খ ১১-১৯৭৫) কারটি নিয়ে বাসায় চলে আসি।’ পরে গাড়িটি নিয়ে এলে দুপক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে দুটি গাড়িই তাদের মালিকের কাছে হস্তান্তার করা হয়।

আরএস/এআইটি/এসআই

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm