‘ক্ষমতার দাপট’ ফকিরনীর হাটে গরুর বাজার, প্রশাসনকে পাত্তাই দিচ্ছেন না চেয়ারম্যান

নির্দেশনা আছে সপ্তাহে দুদিন ‘হাট’ বসানোর। তবে এটা স্রেফ কাগজে-কলমেই। ইউপি চেয়ারম্যানের দাপটে সেখানে প্রতিদিনই বসানো হচ্ছে হাট। কারণ বাজারটির ইজারাদার যে চেয়ারম্যান নিজেই! চেয়ারম্যানের ক্ষমতার কাছে প্রশাসন যেন অসহায়।

এ চিত্র কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের ফকিরনীর হাটের। বাজারটির ইজারা নিয়েছেন জুলধা ইউপি চেয়ারম্যান রফিক আহমদ।

জানা যায়, করোনাকালীন স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে সপ্তাহের রোববার ও বুধবার দুদিন ফকিরনীর হাট বসানোর নির্দেশনা দিয়েছিল কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে শুক্রবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকেই পশুর বাজার বসিয়েছেন চেয়ারম্যান।

সরেজমিন দেখা গেছে, বাজারটিতে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই। এখানকার ক্রেতা-বিক্রেতা বেশিরভাগের মুখে নেই মাস্ক। জনসমাগমও প্রচুর। বাজারের পাশেই বসানো হয়েছে চা-পান-সিগারেটের দোকান। সেখানে বসেই অনেকে চালাচ্ছেন জম্পেশ আড্ডা। অথচ কন্ট্রোল রুমে বসে ছিলেন পুলিশ সদস্যরা।

নিয়মের তোয়াক্কা না করেই বসেছে হাট। অথচ কন্ট্রোল রুমের সামনেই রয়েছে পুলিশ

এদিকে ক্রেতা-বিক্রেতার কারণে সন্ধ্যা থেকেই হাটের আশপাশে দেখা দেয় তীব্র যানজট।

হাটে আসা এক ক্রেতা সাকিবুল আলম বলেন, গরু কিনতে এসেছিলাম, কিন্তু পছন্দ হচ্ছে না। আবার হাটজুড়ে অজস্র লোক দেখেছি যারা স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। অনেকের মুখে তো মাস্ক পর্যন্ত নেই। তাই এসব মানুষের মাঝে ঘুরতে একটু ভয়ও লাগছে।

স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে এক গরু ব্যবসায়ীর সহজ উত্তর—গরুর বাজারে স্বাস্থ্যবিধি কেমনে মানবো? মানুষ আর গরুর সঙ্গে গা ঘেঁষে রাত কাটাচ্ছি।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্য এক বাজারের ইজারাদার বলেন, চেয়ারম্যানের দাপটের কাছে প্রশাসন অসহায়। সপ্তাহে দুদিনের হাট যদি প্রতিদিন বসে তাহলে আশপাশের অন্যান্য পশুর হাটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

যোগাযোগ করা হলে বাজারের ইজারাদার চেয়ারম্যান রফিক আহমদ আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে গরু আসছে। সেসব গরু বাজারে রাখা আছে। এবারে করোনায় বাজার নিয়ে আমরা লোকসানে আছি।

স্বাস্থ্যবিধির বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমরা সবাইকে সচেতন করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আমাদের ভোলান্টিয়াররাও বাজারে আসা মানুষদের সচেতন করছেন।

সাপ্তাহিক দিনের বাইরে বাজার বসানোর বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বাজারে এসে দেখে যান ক্রেতা আছে কিনা। এরপর ব্যস্ততা আছে জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন চেয়ারম্যান।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিন সুলতানা আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, উপজেলার সব হাট সপ্তাহে দুদিন বসানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফকিরনীর হাটও এর বাইরে নয়। নির্দেশ অমান্য করে কেউ বাজার বসালে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোকিত চট্টগ্রাম

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm