দুর্গাপূজায় বাধা, হিন্দুদের হাজারো লোক ঘেরাও করল কৈবল্যধাম মন্দির

কৈবলধামে দুর্গাপূজা নিয়ে দানা বাঁধছে ক্ষোভ। বটতলার ৫২ বছরের পুরনো দুর্গাপূজা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের কারণেই এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পূজা উদ্‌যাপন কমিটির ক্ষুব্ধ লোকজন এর প্রতিবাদে মন্দির গেটে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। একইসঙ্গে করেছেন বিক্ষোভ।

আকবরশাহর উত্তর পাহাড়তলী এলাকার মালিপাড়ার ওই জায়গায় পূজা বন্ধের প্রতিবাদে শুক্রবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ৩টায় হাজার হাজার লোক জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেন। তারা সেখানে অনশন কর্মসূচিও শুরু করেন।

জানা যায়, আসন্ন দুর্গাপূজার প্রস্তুতির বিষয়ে আকবরশাহ থানা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির একটি দল দুপুর ২টার দিকে কৈবল্যধামের মহারাজ মোহন্ত কালীপদ ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যান। মহারাজ মোহন্ত পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি প্রতিনিধি পাঠিয়ে কমিটির লোকজনকে জানান, পূজা করার স্থানে গাছ লাগানো হয়েছে। তাই এ বছর পূজা করা যাবে না।

একথা শুনে পূজা উদ্‌যাপন কমিটির লোকজন মন্দির প্রাঙ্গণে প্রতিবাদ ও অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মালিপাড়া থেকে কয়েক হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী অনশন কর্মসূচিতে যোগ দেন। এ সময় তারা মন্দিরের গেটে তালা লাগিয়ে দেন।

আরও পড়ুন: ‘হিন্দু নির্যাতন’—এভাবেই একদিন হিন্দুশূন্য হয়ে যাবে বাংলাদেশে

খবর পেয়ে আকবরশাহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে কমিটির লোকজন পূজার অনুমতি ছাড়া অনশন ভাঙবেন না বলে জানান।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সমস্যা সমাধানে বৈঠকে বসেছে মহানগর পূজা উদ্‌যাপন কমিটি, আকবরশাহ থানা পূজা উদ্‌যাপন কমিটি, কৈবল্যধাম কর্তৃপক্ষ ও আকবরশাহ থানা পুলিশ।

এদিকে আন্দোলনকারীদের কয়েকজন বলেন, ৫২ বছর ধরে কৈবল্যধামের বটতলায় দুর্গাপূজা হয়ে আসছে। হঠাৎ বর্তমান মহারাজ মোহন্ত কালীপদ ভট্টাচার্য এখানে পূজা বন্ধের নির্দেশ দেন। তিনি পাশের একটি জায়গায় পূজা করতে বলেছেন। আমরা পূজা করার ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাবো।

যোগাযোগ করা হলে কৈবল্যধামের ট্রাস্টি গোপাল দত্ত বলেন, মালিপাড়া এলাকা লোকজনের সঙ্গে কোনো ঝামেলা হয়নি। দুর্গাপূজা নিয়ে কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: ‘হিন্দুদের—লড়াই’ প্রবর্তক সংঘের ২ নেতার বিরুদ্ধে মামলা ইসকনের

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আকবরশাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহির হোসেন বলেন, কৈবল্যধামের আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্দেশ্যে এবার পূজা অন্য জায়গায় করার জন্য বলা হয়েছিল। কারণ পূজায় আসা দর্শনার্থীদের অনেকে সেখানকার গাছপালা ভেঙে ফেলেন। আমরা সবার সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি সমাধান করেছি। কৈবল্যধাম কর্তৃপক্ষ এবার পূজা হওয়ার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন।

সিএম/ডিসি

3 মন্তব্য
  1. শিপ্রা দে বলেছেন

    এটা চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড়ো ঐতিয্যবাহী দূর্গাপুজা, এ অন্যায় মেনে নেয়া যাবেনা।

  2. শিপ্রা দে বলেছেন

    এ অন্যায মেনে নেয়া যাবেনা, পুজা ওখানেই হবে।

  3. Krishna nath বলেছেন

    এইটা টিক না। এই মুহূর্তে এই চিন্তা মহন্ত এর জন্য ভালো হবে না।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm