অনেক ব্যবসায়ীকে নিঃস্ব করেছেন শিল্পপতি আব্দুল হাই, ফেঁসে গেলেন কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যানের মেয়েও

ব্যাংক থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবসায়ী কেউ রক্ষা পাননি শিল্পপতি এসএম আব্দুল হাই’র হাত থেকে। কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বর্তমানে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন ব্যাংকের প্রায় ৬শ’ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ কাঁধে নিয়েও তোয়াক্কা করছেন না আদালতের আদেশ। সশরীরে তাকে হাজির হতে বললেও নানা তালবাহানায় করছেন সময়ক্ষেপণ।

এবার ব্যাংকের ১৫২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ পরিশোধ করতে শিল্পপতি এসএম আব্দুল হাইকে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। একই আদেশে তাঁর সাবেক স্ত্রী নিলুফার আকতারে এবং একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মোরশেদ শাহনুর হাসিন হিমাদ্রীকেও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এসএম আব্দুল হাই ফটিকছড়ি উপজেলার মৃত আব্দুল হাদীর ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম নগরের খুলশী আবাসিক এলাকার ৬ নম্বর রোডের ৩৬/সি ব্লকের ৮ নম্বর বাড়িতে থাকেন। নগরের কর্ণফুলী ইপিজেডের লিজেন্ড টেক্সটাইল গার্মেন্টস ও মাইলস ফেব্রিকসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর তিনি । nতাঁর সাবেক স্ত্রী নিলুফার আকতার শিল্প প্রতিষ্ঠান কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের মেয়ে। এছাড়া পরিচালক মোরশেদ শাহনুর হাসিন হিমাদ্রীও খুলশীর একই ঠিকানায় বসবাস করেন।

আরও পড়ুন : অভিজাত চিটাগাং ক্লাবকে শাস্তি

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রেজাউল করিম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখার ১৫২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ আদায়ে করা মামলায় ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর ঋণখেলাপি এসএম আব্দুল হাই’র বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করা হয়। সেই আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। এতে তিনজনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিবাদী আব্দুল হাইকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু তিনি আদেশ অমান্য করে উপস্থিত না হয়ে সময় চেয়ে আবেদন করেন। এ আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, বিবাদী এসএম আব্দুল হাই’র বিরুদ্ধে সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের দুটি ঋণ খেলাপির মামলা আদালতে বিচারাধীন। এতে ব্যাংকের দাবি করা ১৫২ কোটি টাকা পরিশোধ করেননি তিনি। এদিকে ঋণের বিপরীতে বন্ধকি সম্পত্তির পরিমাণও খুব কম। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংকের ৬শ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেননি আব্দুল হাই।

জানা গেছে, ব্যাংকের দেনা ছাড়াও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের বিশাল অঙ্কের টাকা মেরে দিয়ে লিজেন্ড টেক্সটাইল বন্ধ করে দিয়েছেন আবদুল হাই। প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের বিপরীতে বন্ধক রয়েছে।

আব্দুল হাই’র প্রতিষ্ঠানটিকে স্টিচ মেশিনারিজ সাপ্লাই দেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, কথাবার্তা ছাড়াই হঠাৎ ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দেওয়ায় মেশিন বিকিকিনির এক কোটি টাকার বেশি পরিমাণ অর্থ আদায় হয়নি। ১০ বছর ধরে সেই টাকা ফেরত না পাওয়ায় আমার প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। আর্থিক যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি তা পুষিয়ে উঠতে পারিনি। এরকম আরও অনেক ব্যবসায়ীকে নিঃস্ব করেছেন আবদুল হাই।

আরএস/আরবি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm