কাভার্ডভ্যানে ইয়াবা পাচার—যাবজ্জীবন সাজার শরিফ জেলে, সাদ্দাম উধাও

২ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ৭০ হাজার পিস ইয়াবা পাচারের মামলায় ২ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মুনসী আব্দুল মজিদ এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি মো. শরিফ উল্লাহ (২৫) আদালতে উপস্থিত থাকলেও সাদ্দাম হোসেন (৩১) পলাতক।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে শরিফ নোয়াখালী জেলার নোয়াখালী সদরের ধর্মপুর ইউনিয়নের চর দরবেশ গ্রামের মো. ফেরদৌস আলমের ছেলে। সাদ্দাম ভোলা জেলার চর ফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ চর আইচা ইউনিয়নের চর আইচা গ্রামের আবদুল আজিজ পালোয়ানের ছেলে।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির বেদারুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন ।

আরও পড়ুন : চট্টগ্রামে যাত্রী সেজে ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে পুলিশের জালে ৩ যুবক

রাষ্ট্রপক্ষে একই আদালতের পিপি অ্যাড. সৈয়দ মো. রেজাউর রহমান রেজা এবং আসামিদের পক্ষে অ্যাড. মো. শহীদুল ইসলাম মামলা পরিচালনা করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ৬ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের রামুর মরিচ্যায় যৌথ চেকপোস্টে কক্সবাজার অভিমুখী একটি কার্ভাডভ্যানে (চট্ট মেট্টো ট-১১-৬৫৬২) তল্লাশি করেন রামু ৩০ বিজিবির সদস্যরা। এসময় গাড়িচালক শরিফ উল্লাহ ও সহযোগী সাদ্দাম হোসেনের তথ্যে কার্ভাডভ্যানের কেবিনের মিটারবক্সের ভেতর থেকে ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পরে এ ঘটনায় ৩০ বিজিবির নায়েব সুবেদার মো. ফোরকান উদ্দিন বাদী হয়ে চালক শরিফ উল্লাহ ও সহযোগী সাদ্দাম হোসেনকে আসামি করে রামু থানায় মাদক আইনে মামলা করেন।

এরপর ২০২২ সালের ১০ মে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ওই মামলার চার্জ গঠন করে বিচারকাজ শুরু হয়। মামলায় ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

এদিকে রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা মূলে দণ্ডিত আসামি গাড়িচালক শরিফ উল্লাহকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী পিপি অ্যাড. সৈয়দ মো. রেজাউর রহমান রেজা বলেন, আদালতে মামলার সাক্ষ্য, প্রমাণ, তথ্য-উপাত্ত উত্থাপন করে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালতের এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

বিডি/আরবি

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!