কর্ণফুলী—আনোয়ারা সড়ক : উন্নয়নের উৎসবে ধুলোর যন্ত্রণা

রাস্তার পিচঢালাই উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। সড়ক বিভাজকের দুপাশে জমে আছে ধুলা-বালি। গাড়ি চলাচল করলেই তা উড়ে গিয়ে ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দোকান ও ঘরবাড়িতে। পথচারীদের হাঁটতে হয় নাক-মুখ চেপে। এ যেন উন্নয়নের উৎসবে ধুলোর যন্ত্রণা।

এমন চিত্র কর্ণফুলী উপজেলার ক্রসিং থেকে বড়উঠানের ডাকপাড়া পর্যন্ত। এ কয়েক কিলোমিটার সড়ক পাড়ি দিতে বেহালদশায় পড়তে হয় পথচারীদের।

স্থানীয়রা বলেন, কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে তৈরি হচ্ছে দেশের প্রথম কর্ণফুলী (বঙ্গবন্ধু) টানেল। টানেলকে ঘিরে দুই উপজেলায় চলছে উন্নয়নের মহাৎসব। দীর্ঘদিন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলছে আনোয়ারা-কর্ণফুলীর সড়কে। এতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে গর্ত। যত্রতত্র পড়ে আছে মাটি ও বালু। গাড়ি চলাচলের সময় জমে থাকা এসব বালু ও মাটি বাতাসে উড়ছে। ধুলাবালি কমাতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। দুই-একদিন পরপর হঠাৎ পানি ছিটিয়ে দেয়, তাও নামমাত্র। ফলে সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি।

আরও পড়ুন: দুদিনের অভিযানে ধরা পড়ল মহাসড়কে যাত্রীবেশে থাকা ৯ ডাকাত

সোমবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে ক্রসিং থেকে বড়উঠানের ডাকপাড়া পর্যন্ত সরেজমিন দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে পিচঢালাই উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে। এসব গর্তে জমে আছে বালু। এছাড়া সড়ক বিভাজকের দুপাশে জমেছে বালুর স্তূপ। সড়কের পাশে পড়ে আছে ইটের খোয়া, বালু ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী। গাড়ি চলাচলের সময় ধুলাবালি উড়ে ছড়িয়ে পড়ছে পুরো এলাকা।

তবে সবচেয়ে নাজুক অবস্থা ফকিরনীর হাট এলাকা থেকে ফাজিলখাঁর হাট পর্যন্ত। এ এলাকায় যানবাহন চলাচল করলেই ধুলায় অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে চারপাশ। আশপাশের দোকান, মার্কেটসহ অন্য স্থাপনাগুলোর লোকজনও টিকতে পারছে না ধুলার যন্ত্রণায়।

এ এলাকায় মুখে মাস্ক লাগিয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন চরলক্ষ্যার মো. মহসিন ও আনোয়ারার এরফান আলী। তারা বলেন, সড়কের ধুলার কারণে কোনো কাপড় একদিনের বেশি গায়ে দেওয়া যায় না। অফিস থেকে বাসায় ফিরে প্রতিদিনই কাপড় ধুতে হয়। কী করব, উন্নয়নের ভোগান্তি মনে করে ধৈর্য ধরে আছি।

ধুলা থেকে বাঁচতে অনেক দোকানি তাদের দোকানের সামনে আলাদা করে একধরনের পর্দা লাগিয়েছেন। আবার রাস্তায় চলাচলকারী মোটরসাইকেল চালকেরাও ধুলা থেকে বাঁচতে পড়েন ধুলা প্রতিরোধক জ্যাকেট!

মো. সরোয়ার রানা নামের এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, জ্যাকেট ছাড়া একমুহূর্ত গাড়ি চালানো যায় না। ধুলায় কাপড় সাদা হয়ে যায়। যেদিন পানি ছিটায়, সেদিন রাস্তা মোটামুটি ভালো থাকে। কিন্তু এরা ঠিকমতো পানিও ছিটায় না। একদিন আসেতো তিনদিন কোনো খবর থাকে না। এ কারণে রাস্তায় এত দুর্ভোগ।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল ও চায়না ইকোনমিক জোন ঘিরে বদলে যাওয়া দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও আসছে বড় পরিবর্তন। নিরাপদ, সময় ও ব্যয়সাশ্রয়ী সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনে কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়কের এ প্রকল্পে দ্রুতগতিতে চলছে কাজ। এজন্য উপজেলার শিকলবাহা ওয়াই জংশন হতে ফকিরনীর হাট, শাহমীরপুর বাদামতল, দৌলতপুর, ফাজিলখাঁর হাট, বড়উঠান রাস্তার মাথা, আনোয়ারা চাতরী চৌমুহনী বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে দুই প্রান্তের চলছে কাজ। একইসঙ্গে চলছে ৪০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয় লেনের ১১ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের কাজ।

ইতোমধ্যে ১১ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ২০২২ সালের অক্টোবরের আগেই কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সওজ দোহাজারীর নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ।

নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, নিয়মিত সকাল-বিকাল পানি দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু অনেক সময় পানি দিতে গেলে রাস্তা ব্লক হয়ে যায়। এ কারণে পুরো রাস্তায় পানি ছিটাতে পারি না। তারপরও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

আরও পড়ুন: সড়কের মুখে গেটবার ‘শূন্য’ করে দিল ৩ পরিবারকে

রাস্তা পরিষ্কার রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা রাস্তা পরিষ্কার করি। কিন্তু কাজ চলমান থাকায় তা খুব একটা কার্যকর হয় না।

একই প্রসঙ্গে কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী বলেন, টানেল সংযোগ সড়ক ও ক্রসিং থেকে ছয় লেন সড়কের কাজ শেষ হলে বদলে যাবে এলাকার মানুষের ভাগ্য। দেশের জন্য বঙ্গবন্ধু টানেল বড় প্রকল্প। এটির কাজ শেষ হলে কর্ণফুলীর মানুষ যেমন উপকৃত হবে, তেমনি উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে প্রতিটি ইউনিয়নে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বড় পর্যটনকেন্দ্র পারকি সমুদ্রসৈকতে ঢাকাগামী পর্যটকদের আসা-যাওয়া সহজ হবে। উন্নয়নের সুফল পেতে হলেতো একটু কষ্ট সহ্য করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম বঙ্গবন্ধু টানেল প্রকল্প। সড়ক নির্মাণকাজ শেষ হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামে পর্যটন বা অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে এবং গড়ে উঠবে শিল্পকারখানা।

ডিসি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm