‘বিপজ্জনক’—‘ছটফট’ পুরুষকেই চটপট ধরছে করোনা, ষাট পেরুলেই শঙ্কা

চট্টগ্রামে করোনা শনাক্তদের মধ্যে পুরুষ রোগীর সংখ্যা নারীর প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি। করোনার রোগীর মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও ‘এগিয়ে পুরুষ’। অন্যদিকে মৃত্যুহার বেশি ষাটোর্ধ্ব বয়সীদের। তাই এ বয়সী মানুষকে ঘিরে স্বজনদের মধ্যে শঙ্কা কাজ করছে বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরুষদের মধ্যে কাজের পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়াও ঘরের বাইরে বের হওয়ার প্রবণতা বেশি। যা করোনাকালীন সময়ে ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

আদতেও হচ্ছে তাই। চট্টগ্রামের করোনা পরিসংখ্যানে এখন কাজে-অকাজে বাইরে বের হতে ‘ছটফট’ করা পুরুষদের মধ্যেই করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেশি।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বুধবারের (২৮ জুলাই) সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চট্টগ্রামে এদিন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয় ৭৮ হাজার ৪৩৬ জনের। যাদের মধ্যে ৫০ হাজার ৪৫৩ জন পুরুষ ও ২৭ হাজার ৯৮৩ জন নারী।

অন্যদিকে একইসময় পর্যন্ত চট্টগ্রামে মোট ৯৩২ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। যার মধ্যে ৫৯৬ জন পুরুষ ও ৩৩৬ জন নারী।

২৮ জুলাইয়ের ওই পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব বয়সীদের সংখ্যাই বেশি। চট্টগ্রামে ওই দিন পর্যন্ত শতাংশের হিসাবে শতকরা ৫৫ দশমিক ৬৮ জন মৃত ব্যক্তির বয়সই ৬১ বছরের বেশি।

আরও পড়ুন: ‘করোনা’—চট্টগ্রামে আরও দীর্ঘ মৃত্যুর মিছিল, শনাক্তের রেকর্ড টিকল না ২ দিনও

এ ব্যাপারে জানতে কথা হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর ও কোভিড-১৯ (ইআরপিপি) প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকীর সঙ্গে।

ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, করোনা শুধু যে ফুসফুসে অ্যাটাক করে তা নয়, শরীরের যেকোনো দুর্বল জায়গা পেলে সেখানেও আক্রমণ করে। বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে ডায়াবেটিস, হার্টের রোগ, কিডনির রোগ, ব্লাড প্রেসার, স্ট্রোকসহ নানা জটিলতা থাকে। তাই তাদের শরীরের রোগাক্রান্ত অংশে করোনার আক্রমণও হয় বেশি। বয়স্ক মানুষদের মধ্যে অনেকে আবার দীর্ঘদিনের ধূমপায়ী। সবমিলিয়ে ভাইরাসটি তাদের এত জায়গায় আক্রমণ করে তারা সহজেই করোনায় কাবু হয়ে যান।

বয়স্ক মানুষদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও তুলনামূলক কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন তরুণ যেভাবে করোনার ধকল সামলাতে পারেন, বয়স্ক ব্যক্তি সেভাবে পারেন না। এটাও বেশি বয়সের মানুষের করোনায় মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

গত এক বছরে দেশে করোনায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি। নারী ও পুরুষের মধ্যে মৃত্যুসংখ্যায় এই ব্যবধানের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতেই এমনটি হচ্ছে। আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি, দেশে মারা যাওয়া করোনা রোগীর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই পুরুষ।

তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে— নারীর শরীরে কিছু হরমোন থাকে। এসব হরমোন রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আবার পুরুষের তুলনায় নারীরা ধূমপান করেন কম। এটাও গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।

এছাড়া নানা কারণে নারীর তুলনায় পুরুষকে বেশি ঘরের বাইরে যেতে হচ্ছে। তাই করোনার ঝুঁকি, আক্রান্ত ও মৃতের তালিকায় পুরুষের সংখ্যাই বেশি। সোজা কথায় করোনা পরিস্থিতিতে যে যত ঘরে থাকবেন, তত নিরাপদ থাকবেন। এটাই আসল বিষয় —যোগ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামের ৩ হাজার ৫১৫ নমুনা পরীক্ষায় রেকর্ড ১ হাজার ৩১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫৮ জন নগরের এবং ৪৫৭ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।

একইসময়ে মারা গেছেন ১৭ জন করোনা রোগী। এরমধ্যে নগরের ৮ জন ও উপজেলার ৯ জন।

চট্টগ্রামে এ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৪৯ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর। অন্যদিকে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রামের মোট ৭৯ হাজার ৭৫১ নমুনায় করোনা শনাক্ত হয়েছে।

 জেডএইচ
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm