করোনার ৭ ভেরিয়েন্টের কোনটি কতটা ভয়ঙ্কর

প্রতিনিয়ত রূপ পরিবর্তন করছে করোনা। রূপান্তরের এই প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে বিশ্বে ভাইরাসটির অনেক ভেরিয়েন্ট (ধরন) ধরা পড়েছে।

করোনার কোনো কোনো ভেরিয়েন্ট উৎপত্তির পর দ্রুত বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। দীর্ঘ সময় ধরে বজায় রেখেছে আধিপত্য। আবার কোনো ভেরিয়েন্ট ছাড়িয়ে গেছে আগের ধরনকে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে তুলে ধরা হলো করোনার ৮ ভেরিয়েন্টের বিস্তারিত।

ডেলটা

করোনার ডেলটা ভেরিয়েন্টের বৈজ্ঞানিক নাম ‘বি.১.৬১৭.২’। ২০২০ সালের শেষদিকে ভারতে প্রথম ডেলটা ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়। একে শুরুর দিকে করোনার ভারতীয় ধরন বলা হতো। পরে ডব্লিউএইচওর পক্ষ থেকে এই ভেরিয়েন্ট নাম দেওয়া হয় ‘ডেলটা’। গত বছরের মে মাসে ডেলটাকে ‘উদ্বেগজনক’ ধরন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ডব্লিউএইচও। করোনার একটি আগ্রাসী ভেরিয়েন্ট ডেলটা। এই ভেরিয়েন্টটির এক ডজনের বেশি ‘মিউটেশন’ হয়েছে। ডেলটা ভেরিয়েন্টের কারণেই ভারতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মারাত্মক আকার ধারণ করে। ভেঙে পড়ে ভারতের স্বাস্থ্যব্যবস্থা। বিশ্বে এখনো আধিপত্য চলছে ডেলটা ভ্যারিয়েন্টের।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে করোনার ‘ভয়ঙ্কর’ আঘাত

গামা

করোনার আরেক ভেরিয়েন্ট গামা। এর বৈজ্ঞানিক নাম ‘পি.১’। ২০২০ সালের শেষদিকে ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের বৃহত্তম শহর মানাউসে এই ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়। ব্রাজিলের বাইরে দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশেও গামা ছড়ায়। গতবছর ব্রাজিলে করোনা পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করার জন্য গামা ভেরিয়েন্টকে দায়ী করা হয়। গামা অনেক বেশি সংক্রামক। এটি অ্যান্টিবডিকে অনেকাংশে ফাঁকি দিতে সক্ষম।

বেটা

বেটার বৈজ্ঞানিক নাম ‘বি.১.৩৫১’। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার এই ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়। গামার মতো বেটাও অনেক বেশি সংক্রামক। এর সংক্রমণে গতবছর দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে। টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে দেখা গেছে, বেটার বিরুদ্ধে তা অপেক্ষাকৃত কম সুরক্ষা দেয়।

ল্যাম্বডা

ল্যাম্বডার বৈজ্ঞানিক নাম ‘সি.৩৭’। ২০২০ সালের শেষদিকে পেরুতে করোনার এই ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়। ল্যাম্বডাকে ‘ভেরিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ডব্লিউএইচও। ল্যাম্বডা অনেক দ্রুত ছড়ায়। এ কারণে ভেরিয়েন্টটিকে বেশি সংক্রামক মনে করা হয়।

এমইউ

এমইউ ভেরিয়েন্টের বৈজ্ঞানিক নাম ‘বি.১.৬২১’। ২০২১ সালের শুরুর দিকে কলম্বিয়ায় করোনার এই ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়। এমইউকে ‘ভেরিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ডব্লিউএইচও।

আরও পড়ুন: ‘দুঃসংবাদ’—করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্টে বাংলাদেশে প্রথম মৃত্যু

আলফা

আলফার বৈজ্ঞানিক নাম ‘বি.১.১.৭’। ২০২০ সালের শেষদিকে যুক্তরাজ্যে করোনার আলফা ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়। আলফাকে উদ্বেগজনক ধরন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ডব্লিউএইচও। করোনার আলফা ধরনের ব্যাপক সংক্রমণের মুখে গতবছরের জানুয়ারিতে লকডাউনে যেতে বাধ্য হয় যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্রেও আধিপত্যশীল হয়ে ওঠে আলফা। যুক্তরাজ্যের গবেষণা অনুযায়ী, মহামারির প্রথমদিকে শনাক্ত করোনার অন্যান্য ভেরিয়েন্টের তুলনায় আলফা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি সংক্রামক। ভেরিয়েন্টেটি অধিক প্রাণঘাতী। তবে আলফার বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন ভালোভাবে কাজ করে।

ওমিক্রন

ওমিক্রন ভেরিয়েন্টের বৈজ্ঞানিক নাম ‘বি.১.১.৫২৯’। গতবছরের নভেম্বরে ওমিক্রন প্রথম শনাক্ত হয় দক্ষিণ আফ্রিকায়। পরে তা বিশ্ব ছড়িয়ে পড়ে। গত ২৬ নভেম্বর ডব্লিউএইচও ওমিক্রনকে ‘উদ্বেগজনক’ ধরন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ইতোমধ্যে বিশ্বের ১২৮টি দেশে অমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। করোনার অন্যান্য ধরনের তুলনায় ওমিক্রন বেশি সংক্রামক কি-না, ওমিক্রনের সংক্রমণে রোগের তীব্রতা অন্যান্য ধরনের তুলনায় বেশি নাকি কম, ওমিক্রন টিকার সুরক্ষাব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে পারে কি-না—এসব বিষয় এখনও সুস্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন—বলছেন গবেষকরা।

আলোকিত চট্টগ্রাম

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm