ওষুধের হাহাকার হাজারী গলিতে, দোকান বন্ধ রেখে ‘নাটক’ ব্যবসায়ীদের

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা। নগরের আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল থেকে জরুরি ডেলিভারি রোগীর ওষুধ কিনতে হাসপাতাল থেকে হাজারী গলিতে আসেন মাসফিক। আসার পর সব ফার্মেসি বন্ধ দেখে তড়িঘড়ি ছুটে যান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ গেইটে। সেখান থেকে ওষুধ নিয়ে জেনারেল হাসপাতালে আসেন মাসফিক।

মাসফিক বলেন, গত বুধবার রাতে আমার স্ত্রীকে আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। আজ (বৃহস্পতিবার) বেলা ১২টায় স্ত্রীর জন্য জরুরি কিছু ওষুধের প্রয়োজন হয়। এসময় হাজারী গলিতে গিয়ে দেখি ওষুধের সব দোকান বন্ধ। তখন উপায় না দেখে তড়িঘড়ি করে দ্রুত ছুটে যাই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গেইটে। পরে সেখান থেকে ওষুধটা নিয়ে আসি।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে যেসব রোগী ভর্তি হয় তাদের প্রয়োজনীয় সব ওষুধের জন্য রোগীর স্বজনরা হাজারী গলির দোকানগুলোতে ছুটে যান। কিন্তু কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ সব দোকান বন্ধ রাখায় বিপাকে পড়তে হয়েছে রোগীর স্বজনদের।

আরও পড়ুন: ‘ভেজাল বাণিজ্য’—এক কোম্পানির মোড়কে অন্য কোম্পানির ওষুধ

জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যায় হাজারী গলিতে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির অফিসের সামনে এসএমসি কোম্পানির প্রতিনিধি ও সমিতির সদস্যরা ৭০ কার্টন ভেজাল খাওয়ার স্যালাইনসহ সুজন কান্তি সিকদার নামে একজনকে আটক করে। পরে কোতোয়ালী থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে আন্দরকিল্লা বিনিময় মার্কেটের নিচতলার জননী কুরিয়ার সার্ভিসের অফিস থেকে আরও ১০২ কার্টনসহ মোট ৬৮ হাজার ৮০০ পিস ভেজাল খাওয়ার স্যালাইন উদ্ধার করে।

এদিকে ভেজাল স্যালাইনসহ সুজন কান্তি সিকদারকে ধরিয়ে দেওয়ার পর বহিরাগতদের নিয়ে হাজারী গলি ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির লোকজন বিজয় বিতানের দোকানদারদের হুমকি-ধমকি দিতে থাকে। একইসঙ্গে কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সদস্যদের অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ওষুধের সব দোকান বন্ধ রাখা হয়। ফলে পাশের চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের রোগী-স্বজনরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে কোতোয়ালী থানার হস্তক্ষেপে বিকাল ৪টায় কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাজারী লেইনের এক ওষুধ দোকানদার আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সদস্যরা বিপুল পরিমাণ ভেজাল খাওয়ার স্যালাইনসহ একজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এর পর বহিরাগতদের নিয়ে ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির লোকজন আমাদের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে দোকান বন্ধ রাখা হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে ৩২ নম্বর আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডে কাউন্সিলর জহুরলাল হাজারী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, হাজারী গলির সব দোকান বন্ধ রাখার কারণ হচ্ছে বুধবার রাতে হাজারী গলির ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির লোকজন কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সদস্যের অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ (বুধবার) সকাল থেকে দোকান বন্ধ রাখে কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতি।

আরও পড়ুন: মেয়াদ ছাড়া ওষুধ বেচে লাজফার্মা—রুহান মেডিসিন

তিনি আরও বলেন, দুপক্ষকে কোতোয়ালী থানায় ডাকা হয়েছে। আশাকরি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক আশীষ ভট্টাচার্য আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় হাজারী গলি থেকে ১৭২ কার্টন ভেজাল খাওয়ার স্যালাইনসহ সুজন কান্তি সিকদার নামে একজনকে আটক করে কোতোয়ালী থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর বহিরাগতদের নিয়ে ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির লোকজন বিজয় বিতানের দোকানদারদের হুমকি-ধমকি এবং বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট চট্টগ্রাম জেলা সমিতির সদস্যের অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে সব দোকান বন্ধ রাখা হয়। পরে কোতোয়ালী থানার সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসে বিকাল ৪টায় সব দোকান খুলে দেওয়া হয়।

আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm