পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন—এবার ইকবালের নতুন ভিডিও ফুটেজ

পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখা ইকবাল হোসেনের নতুন ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে। যেখানে দেখা যায়, পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার আগে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়ায় সে। পথে তার সঙ্গে দুজন নৈশপ্রহরীর সঙ্গে কথাও বলে। মাজার থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে বের হওয়ার আগে মাজারের এক খাদেম ও এক হাফেজের সঙ্গে বসেও ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে নতুন ভিডিও ফুটেজ পাঠিয়ে এ তথ্য জানায় পুলিশ। কয়েকটি স্থানের সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে সংগ্রহ করা ১৬ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে সেই রাতে ইকবালের ঘোরাফেরার পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে এসেছে।

এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে প্রথম ফুটেজ পাঠায় পুলিশ। দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিন নানুয়া দিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে ইকবাল হোসেন (৩৫) পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন বলে সেই ফুটেজে শনাক্ত হয়। ইকবাল কুমিল্লা নগরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুজানগর সংলগ্ন দ্বিতীয় মুরাদপুর লস্করপুকুর পাড় এলাকার বাসিন্দা।

আরও পড়ুন: কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রেখেছিলেন ইকবাল হোসেন

Yakub Group

জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি গণমাধ্যমকে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ আমাদের হাতে। আমরা এখন ইকবালকে খুঁজছি। আমাদের টার্গেট মূল পরিকল্পনাকারীকে ধরা। এ লক্ষ্যে পুলিশের বিভিন্ন দল কাজ করছে। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছি।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের ডিআইও (জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা) মনির আহম্মদ নতুন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ গণমাধ্যমে পাঠান। ১৬ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের এই ফুটেজের প্রথমেই রয়েছে, প্রতিমায় হনুমানমূর্তির গদা আছে। কিন্তু ঘটনার পর (কোরআন রাখার পর) সেটা আর ছবিতে দেখা যাচ্ছে না। পরে হনুমানের পায়ের ওপর কোরআন শরিফ দেখা যাচ্ছে।

ইকবাল
পবিত্র কোরআন শরিফ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ায় ইকবাল

পুলিশের পাঠানো ফুটেজ ও এর বর্ণনায় উল্লেখ আছে, ইকবাল প্রায়ই মাজারে যাতায়াত করতো। ঘটনার আগের দিনও (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ৪২ মিনিটে তাকে নগরের দারোগাবাড়ি মাজারে দেখা গেছে। সে মাজারে প্যান্ট ও গেঞ্জি পরে ঢুকছে।

ফুটেজে দেখা গেছে, মাজারের খেদমতকারী ফয়সল ও হাফেজ হুমায়ুন মসজিদে প্রবেশ করেন। এরপর ইকবাল মসজিদে প্রবেশ করে। সে তাঁদের পাশে বসে। এরপর সে মাজারের উত্তর দিকে চলে যায়। হাফেজ হুমায়ুন ছিলেন সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা। তিনি আগে মাজার থেকে বের হয়ে যান। পরে খাদেম (কালো পোশাক পরা) ফয়সল বের হন। এরপর ইকবাল দানবাক্সের ওপর থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে মেঝেতে বসে। সবশেষে কোরআন শরিফ হাতে নিয়ে মাজারের উত্তর পাশের সড়ক দিয়ে চলে যায়।

আরও পড়ুন: পূজামণ্ডপে হামলা : ৮৩ জনের নামে মামলা, অজ্ঞাত ৫০০

ইকবাল চকবাজার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক মোড় ঘুরে পূজামণ্ডপের দিকে রওনা হয়। এ সময় তার সঙ্গে দুজন নৈশপ্রহরীর দেখা হয়। তাঁদের সঙ্গে ইকবালের কথাও হয়। এরপর ইকবাল কোরআন হাতে নিয়ে ডিগাম্বরীতলা সড়ক দিয়ে নানুয়া দিঘির পূজামণ্ডপে প্রবেশ করে। পরে মূল পূজামণ্ডপের বাইরে সড়কের পাশে থাকা ফুটপাতের ওপর সীতার তিনটি প্রতিমার পাশে থাকা হনুমানের প্রতিমার পায়ের ওপর কোরআন রাখে ইকবাল। তারপর হনুমানের হাতে থাকা গদা কাঁধে নিয়ে সে চলে যায়।

পুলিশ বলছে, ইকবাল দারোগাবাড়ি মসজিদ ও মাজার থেকে কোরআন হাতে নিয়ে নগরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তারপর পূজামণ্ডপে রাখে। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm