এক স্কুলে আনন্দ—বেদনার স্মরণীয় দিন

অবিস্মরণীয় এক দিন কাটাল পটিয়ার ঐতিহ্যবাহী মোহছেনা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যে দিনটিতে ছিল আনন্দ, বেদনাও।

পঞ্চম শ্রেণি শেষ করা তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর বিদায় উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) এ আয়োজন করা হয়। যেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মুখর হয়ে উঠে স্কুল মিলনায়তন। আর সবশেষে ছিল বিদায়ের কান্না।

সকাল থেকেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সেজেছিল বর্ণিল সাজে। ফেস্টুন, বেলুন আর ফুলে ফুলে ছিল যেন বসন্তের আগমন। শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষকদের হাতে তৈরি কার্ড, ফুলের তোড়া আর চোখের জলে ভেজা চিঠি উপহার দিয়ে বিদায় জানাতে আসে।

অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে। এরপর শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ছিল কবিতা আবৃত্তি, দেশের গান, নৃত্য আর নাটিকা। প্রতিটি পরিবেশনার সঙ্গে মিশে গিয়েছিল ‘আর তো ফিরব না এই স্কুলে’ এমন আবেগের সুর।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে এসে আবেগের বাঁধ ভেঙে পড়ে। শিক্ষার্থীরা একে একে তাদের প্রিয় শিক্ষকদের সালাম দিয়ে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি শিক্ষকরাও। পাঁচ বছর ধরে যাদের হাত ধরে এই শিশুরা প্রথম অক্ষরজ্ঞান লাভ করেছে, আজ যে তারা স্কুল ছেড়ে পা বাড়াচ্ছে মাধ্যমিকের পথে।

প্রধান শিক্ষক চাঁদ সুলতানা তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজ আমাদের স্কুল পরিবারের একটি অংশ বিদায় নিচ্ছে। তোমরা আমাদের গর্ব। পাঁচ বছর ধরে তোমাদের হাসি-কান্না, দুষ্টুমি-আদর সবই আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। মাধ্যমিকে গিয়েও যেন তোমরা এই স্কুলের নাম উজ্জ্বল করো, মানুষের মতো মানুষ হয়ে বড় হও, এই প্রত্যাশা রাখি।

সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হক বলেন, আমি যখন তোমাদের প্রথম ক্লাস নিতে এসেছিলাম তখন অনেকেই ঠিকমতো লিখতে পারোনি। আজ তোমরা এত সুন্দর করে কবিতা আবৃত্তি করছ, গান গাইছ। আমার ছাত্র-ছাত্রীরা যখন আমাকে জড়িয়ে কাঁদছে, তখন বুঝি আমি শুধু শিক্ষক নই, আমি তোমাদের বাবার মতোই হয়ে গেছি।

বিদায়ী শিক্ষার্থী ত্বাহী বলেন, মোহছেনা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ শুধু একটি বিদ্যালয় নয়, একটি আবেগের নাম। যেখানে শিক্ষার সঙ্গে মিশে আছে ভালোবাসা আর মমতার অশ্রু।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষক আবদুস শুক্কুর, কামরুন নাহার, বিশ্বজিৎ সিংহ, মাহবুবা রহমান, মাহমুদুল হক, ফারজানা চৌধুরী, শেফালী দেবী, পল্লব দাশ, শাহিন আকতার, নিগার সুলতানা, সারোয়ার জাহান, পিংকি সেন, লুৎফর নাহার ও উম্মে তানজিলা।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm