ভেঙে ফেলেছে সীমানা প্রাচীর, বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে তাণ্ডব চালাচ্ছে একদল বন্য হাতি

চকরিয়ার ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েছে বন্য হাতির দল। বাচ্চাসহ ১০-১২টির বন্য হাতি সেখানে ঢুকে তাণ্ডব চালাচ্ছে। পার্কের কর্মকর্তারা ধারনা করছেন খাবারের সন্ধানে হাতির দলটি পার্কে ঢুকে পড়েছে। তিন মাস আগেও একবার বন্য হাতির দল এখানে তাণ্ডব চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করে।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) দিনের কোনো এক সময় বন্য হাতির দলটি পার্কের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এসব হাতি বর্তমানে পার্কের জীববৈচিত্র্য জোন এলাকায় অবস্থান করছে।

আরও পড়ুন: হাতি মেরে জেলে বাবা—ছেলে

পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইতোমধ্যে কয়েকটি হাতিকে পার্ক থেকে বের করতে সক্ষম হলেও আরও কিছু হাতি পার্কে অবস্থান করছে। বন্য হাতির দলে ছোট-বড় ১২-১৩টি বন্য হাতি রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি হাতি সকালের দিকে বেরিয়ে গেলেও বাকি ৯-১০টি হাতি পার্কের ফলদ ও বনজ বাগানে ব্যাপক তাণ্ডব চালাচ্ছে।

সেখানে খাবারের সন্ধান পাওয়ায় কোনোভাবেই বন্য হাতিগুলো সরানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওইসব এলাকায় কড়া পাহারা বসিয়েছে। যাতে হাতিগুলো পার্কের বন্য প্রাণী বেষ্টনী তথা পর্যটক-দর্শনার্থীদের ঘুরে বেড়ানোর জায়গায় যেতে না পারে।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের সীমানা এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বৃহস্পতিবারের দিকে গহীন জঙ্গল থেকে একটি হাতির পাল তাদের পাড়া হয়ে পার্কের সীমানা দেয়াল ভেঙে ভেতর ঢুকে পড়ে। পাড়ার লোকজন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

আরও পড়ুন: বন্য হাতি নিধনে নানা কৌশল : ময়নাতদন্তে ‘হত্যা’ হয়ে যায় ‘মৃত্যু’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাজহারুল ইসলাম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, গত তিন মাসে আগে খাবারের সন্ধানে শাবকসহ ১৯টি বন্য হাতির একটি দল পার্কের ভেতর ঢুকে তাণ্ডব চালায়। এতে ফলদ ও বনজ গাছগাছালির ব্যাপক ক্ষতি হয়। এবারও একটি হাতির পাল সেই বাগানে হানা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পার্কে আসা দর্শনার্থীদের ভ্রমণের স্থান বন্য প্রাণীর বেষ্টনী এলাকায় যাতে বন্য হাতিগুলো যেতে না পারে, সেজন্য পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চেষ্টা করছি বন্য হাতির দলটিকে জঙ্গলের দিকে ফিরিয়ে দিতে।

মুকুল/এসি
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm