‘এইচআর গ্রুপ’—১৪২ কোটি টাকা মেরে দিল রুবাইয়া অয়েলের তিন মালিক

হারুন অর রশিদ, এইচআর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ব্যাংকসহ অসংখ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে তাঁর হাজার কোটি টাকার লোন। এমন অসংখ্য অভিযোগের ক্ষুদ্রাংশ সাউথইস্ট ব্যাংকের ১৪২ কোটি ৮৭ লাখ ৩২ হাজার ২১৮ টাকার ঋণখেলাপির মামলা। এ মামলায় প্রতিষ্ঠান রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের তিন কর্ণধারের বিরুদ্ধে ৫ মাসের দেওয়ানি আটকাদেশ জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (৮ জুন) অর্থঋণ আদালতের বিচারক মুজাহিদুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

পরোয়ানাভুক্ত আসামিরা হলেন- রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুন অর রশিদ, চেয়ারম্যান আনজুমান আরা বেগম এবং পরিচালক হাসনাইন হারুন।

জানা যায়, চট্টগ্রামের এইচআর গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশিদ। তাঁর গ্রুপের অধীনে প্রায় ১৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ রয়েছে রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েলে। এ প্রতিষ্ঠানের কাছেই ঋণ আছে ১৩ ব্যাংকের। ২০২১ সালের সমীক্ষায় রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের বিরুদ্ধে রয়েছে ৪৪৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকার ছয়টি মামলা। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে ১০৩ কোটি ১৫ লাখ টাকার আরও তিনটি মামলা রয়েছে।

Yakub Group

এদিকে ১২৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার তিনটি মামলা রয়েছে চিটাগাং ইস্পাতের বিরুদ্ধে। এ প্রতিষ্ঠানের কাছে জনতা ব্যাংকের পাওনা রয়েছে ৭৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা ও আল-আরাফাহর ৮৫ কোটি টাকা। গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চিটাগাং ইস্পাতের কাছে মোট খেলাপি পাওনা ১২৮ কোটি ৮০ লাখ ৫২ হাজার ৫২৯ টাকা।

আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে কিরিচের কোপে কান কেটে বিশ্বকলোনিতে লুকিয়ে ছিল সেই যুবক

এইচআর গ্রুপের মালিকদের ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান মেসার্স চিটাগাং ইস্পাতের নামে সাউথইস্ট ব্যাংক হালিশহর শাখার ২৮ কোটি ৪৯ লাখ ৫ হাজার ২৮ টাকা, মেসার্স এইচ স্টিল রি-রোলিং মিলস শিপ ব্রেকিংয়ের নামে ব্যাংক এশিয়া আগ্রাবাদ শাখার ৭৫ কোটি ৪৮ লাখ ৯২ হাজার ৮১৬ টাকা, রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজের নামে দি প্রিমিয়ার ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার ২৬ কোটি ৭৭ লাখ ২৬ হাজার ৮১ টাকার ডিক্রী প্রদান করেন আদালত। ন্যাশনাল আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে ব্যাংক আল-ফালাহ আগ্রাবাদ শাখার ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৮২ হাজার ৭১৫ টাকা, রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নামে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড আগ্রাবাদ শাখার ৭ কোটি ৫৩ লাখ ২১ হাজার ৯৬ টাকার দুটি মামলা বিচারাধীন। ব্যাংকের পক্ষে এসব মামলা পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট আলী আজগর চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট আমান আকবর চৌধুরী।

সাউথইস্ট ব্যাংকের আইনজীবী আলী আজগর চৌধুরী আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, সাউথইস্ট ব্যাংক পাহাড়তলী শাখার অর্থঋণ মামলায় ডিক্রি পেয়ে জারি মামলা দায়ের করি। এ জারি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তফসিল বিক্রয়ের পর ১৪২ কোটি ৮৭ লাখ ৩২ হাজার ২১৮ টাকা পাওনা আদায় করতে না পারায় অর্থঋণ আদালতে দেওয়ানি আটকাদেশ চেয়ে আবেদন করি। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে ৫ মাসের দেওয়ানি আটকাদেশ জারি করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করেছেন।’

চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রেজাউল করিম আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ১৪২ কোটি ৮৭ লাখ ৩২ হাজার ২১৮ টাকার ঋণখেলাপি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করে সাউথইস্ট ব্যাংক লিমিটেড পাহাড়তলী শাখা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত শুনানি শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে ৫ মাসের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm