উৎসবের রথযাত্রায় নগরজুড়ে জনস্রোত

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে উৎসব ও আনন্দমুখর পরিবেশের উদযাপিত হয়েছে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। নগরের বিভিন্ন মন্দির থেকে পৃথকভাবে বের করা হয় রথযাত্রা। ব্যানার, প্লেকার্ড, ফেস্টুন, পৌরাণিক সাজ ও বাদ্যযন্ত্র নিয়ে এতে অংশ নেয় ভক্তরা। শোভাযাত্রায় ছিল হাতি এবং ঘোড়াও। চলতি পথে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয় প্রসাদ ও শরবত।

এদিকে রথযাত্রা উপলক্ষে দিনভর নানা আয়োজন ছিল প্রবর্তক ইসকন মন্দির, তুলসী ধাম ও নন্দনকানন ইসকন মন্দিরে। আজ (রোববার) বিকেলে এসব মন্দির থেকে বের হওয়া রথযাত্রা নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় ঢল নামে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের। শিশু-কিশোরদেরও আনন্দের কমতি ছিল না।

অন্যদিকে রথযাত্রা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) পক্ষ থেকে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

আজ দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে নগরের নন্দনকানন রথের পুকুর পাড় থেকে বের করা হয় বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রা। এতে বিভিন্ন সংগঠনের ভক্তরা ব্যানার, প্লেকার্ড, ফেস্টুন, পৌরাণিক নানা সাজ ও বাদযন্ত্র নিয়ে অংশ নেয়।

তুলসীধামের মোহন্ত শ্রীমৎ দেবদীপ পুরী মহারাজের পৌরহিত্যে দুইশ বছরের প্রাচীন নন্দনকানন রথের পুকুর পাড়ে কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উৎসব উদ্বোধন করেন সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।

রথ পরিক্রমার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন।

এতে সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুছ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম, চসিক প্যানেল মেয়র আব্দুস সবুর লিটন, কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী, মহিলা কাউন্সিলর রুমকি সেনগুপ্ত, সাবেক কাউন্সিলর বিজয় কুমার চৌধুরী কিষাণ, ব্যবসায়ী মো. সাহাবউদ্দিন ও লিটন ধর।

আরও পড়ুন : চট্টগ্রামজুড়ে বর্ণিল রথযাত্রা উৎসব

অ্যাড. সুজন কান্তি দে’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি ডা. মাধব চন্দ্র চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক বিধান ধর।

এর আগে বেলা ১২টা থেকে ভক্তরা ভিড় জমাতে থাকেন মন্দির ও আশপাশের এলাকায়। রথ পরিক্রমার রাস্তার দুপাশের নারী-পুরুষের উপস্থিতি ছিলে চোখের পড়ার মতো। রথযাত্রায় অংশ নিতে ট্রাক, পিকআপ, লরি, ভ্যানে ঢাক-ঢোলসহ নানা বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে ধর্মীয় গান পরিবেশনের মাধ্যমে দলে দলে আসতে থাকেন ভক্তরা। এসময় লোকে লোকারণ্যে হয়ে উঠে তুলসী ধাম প্রাঙ্গণ।

এদিকে নগরের প্রবর্তক ইসকন মন্দির ও নন্দনকানন রাধামাধব মন্দির এলাকায় ছিল অভিন্ন চিত্র। বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল এ দুমন্দিরেও।

অপরদিকে ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের উদ্যোগে রথযাত্রা উপলক্ষে দিনব্যাপী ছিল নানা আয়োজন। সকাল ১০টায় বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞানুষ্ঠান, সাড়ে ১০টায় গৌড়িয় ভজন কীর্তন পরিবেশন, দুপুর ১টায় জগন্নাথ লীলা বিষয়ক প্রবচন, দুপুর দেড়টায় মহাপ্রসাদ বিতরণ, দুপুর ২টায় ভাগবতীয় আলোচনা সভা, বিকেল ৫টায় শ্রী বিগ্রহগণের রথারোহন ও মহাশোভাযাত্রা শুরু হয়। এছাড়া আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত ৯ দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন রয়েছে।

ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলারাজ গৌর দাস ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। রথযাত্রার উদ্বোধন করেন সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন।

প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী। বিশেষ আলোচক ছিলেন পুন্ডরিক ধামের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক দারু ব্রহ্ম জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী।

পরে বিকেল ৫টায় প্রবর্তক মোড় থেকে রথ পরিক্রমা শুরু হয়ে চট্টেশ্বরী মোড়-কাজির দেউড়ি-জামালখান-চেরাগী পাহাড়-আন্দকিল্লা-বক্সিরহাট বিট-লালদীঘির পাড়-কোতোয়ালী-নিউমার্কেট-রাইফেল ক্লাব-কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-সিনেমা প্যালেস হয়ে হাজারী গলি গিয়ে শেষ হয়।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ জুলাই (সোমবার) অনুষ্ঠিত হবে উল্টো রথযাত্রা।

আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!