ইপিজেড—বন্দরটিলা ভাঙাচোরা সড়ক যেন মরণফাঁদ, দুর্ভোগ চরমে

নগরের ইপিজেড থেকে বন্দরটিলা সড়কে অন্তত এক কিলোমিটার রাস্তা যেন মরণফাঁদ। সড়কের প্রায় অংশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অংসখ্য খানাখন্দ। গর্তে পড়ে বিকল হচ্ছে গাড়ি, ঘটছে দুর্ঘটনা

সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাসসহ কয়েক হাজার ভারী যানবাহন চলাচল করছে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে। এছাড়া সড়কে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা।

সরেজমিন দেখা গেছে, পতেঙ্গা সৈকতের (সিবিচ) মুখ থেকে সল্টগোলা ক্রসিং পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পিলার স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। কাজ করতে গিয়ে ৮.৬ কিলোমিটার দূরত্বের এমএ আজিজ সড়কের প্রায় অংশে ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি সব জায়গায় পুনরায় কার্পেটিং করা হলেও এখনও বেহাল অবস্থা বন্দরটিলা থেকে ব্যারিস্টার সুলতান আহমেদ কলেজ গেট পর্যন্ত ১.২ কিলোমিটার অংশ। সড়কটির উভয়পাশে শতাধিক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রীবাহী বাসসহ ছোট-বড় যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে ওই সড়কে। যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

তবে সিডিএ বলছে, সড়কটির বেহাল অবস্থার জন্য দায়ী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ড্রেনেজ ব্যবস্থা। সড়কে জমে থাকা বৃষ্টির পানির কারণে কার্পেটিং করলেও বেশিদিন টিকছে না। ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করা পর্যন্ত এই ভোগান্তি কমবে না।

Yakub Group

স্থানীয়রা জানায়, ২০১৮ সালের নভেম্বরে লালখানবাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ শুরুর পর থেকে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়। গত তিন বছরে ইপিজেড-বন্দরটিলা সড়কের ৯৫০ মিলিমিটার জায়গা বেশ কয়েকবার ঢালাই ও কার্পেটিং করা হলেও কয়েকদিন পর আবার পুরনো রূপে ফিরে যায়। এই বর্ষায়ও ইটের গুড়া এবং রাবিশ (আবর্জনা) দিয়ে মেরামত করে সচল রাখা হয় সড়কটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৬ জুলাই) সকল সাড়ে ৮টার দিকে বন্দরটিলায় গর্তে পড়ে একটি লরি উল্টে যায়। গাড়িটির ক্ষতি হলেও কেউ হতাহত হয়নি। তবে ২০১৯ সালে ৮ জানুয়ারি ইপিজেড় মোড়ে গর্তে পড়ে একটি লরি উল্টে গিয়ে অটোরিকশাকে চাপা দেয়। তখন অটোরিকশায় থাকা দুজন প্রাণ হারান। সে ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।

আরও পড়ুন: এসডিজি অর্জনে নারীদের জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে : আ জ ম নাছির

জসিম উদ্দিন নামের বন্দরটিলার এক ব্যবসায়ী বলেন, বন্দরটিলা থেকে ব্যারিস্টার কলেজ পর্যন্ত সড়কে গত তিন বছরে কয়েকবার কার্পেটিং হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমে থাকে। এর মধ্যে ভারী যান চলাচলের কারণে ইপিজেড টিসিবি ভবন থেকে বন্দরটিলা পর্যন্ত শতাধিক ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে নিত্য ঘটছে দুর্ঘটনা।

তিনি আরও বলেন, গত মঙ্গলবার সকালে একটি লরি উল্টে যায়। অবশ্য কেউ হতাহত হয়নি। তবে ৮/১০ দিন আগে একটি রিকশা উল্টে দুই বাচ্চাসহ এক নারী গুরুতর আহত হন। এছাড়া মোটরসাইকেলসহ যাত্রী গর্তে পড়ে যাওয়ার ঘটনা এখানে প্রতিদিনের।

স্থানীয় বাসিন্দা ইসলাম চৌধুরী বলেন, এই সড়কে দুই বছর আগে একটি লরি উল্টে অটোরিকশার ওপর পড়ে। সেসময় গাড়িতে থাকা দুজন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

জানতে চাইলে লালখানবাজার-বিমানবন্দর সড়কের নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণ জলাবদ্ধতা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় বৃষ্টির জমে থাকা পানি নামতে পারে না। আমরা এ নিয়ে সড়কটিতে তিনবার কার্পেটিং করেছি। কিন্তু পানি জমে থাকার কারণে স্থায়ী হয় না। নালা পরিষ্কার না রাখলে সড়কে আপনি যতই কার্পেটিং করেন থাকবে না।

এ ব্যাপারে কথা বলতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

যোগাযোগ করা হলে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, ফ্লাইওভারের পিলার স্থাপনের জন্য মাটি খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সড়কটিতে গর্ত হয়েছিল। এখন সড়কের উভয় পাশে ড্রেনের কাজ চলছে। এ কারণে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় কাটতে হচ্ছে। এসব কারণে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। গত দুদিন ধরে সড়কে গাড়ি চলাচলের উপযোগী করা হয়ছে। তবে ড্রেনের কাজ শেষ হওয়ার আগে এই ভোগান্তি থেকে আপাতত মুক্তি নেই।

আরবি/আলোকিত চট্টগ্রাম

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

মন্তব্য নেওয়া বন্ধ।

ksrm