অনলাইনে চাইনিজ পণ্যের ফাঁদ—পাঠানো হতো আলু-পটলও!

অনলাইনে পণ্য বিক্রি ও বিদেশ থেকে পণ্য ইনপুট সেবা প্রদানের নামে অভিনব প্রতারণা করার অভিযোগে চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় বাকলিয়া থানার রাহাত্তরপুল এলাকা থেকে তাকে আটক করে র্যাব-৭ এর একটি দল।

রোববার (১৩ মার্চ) বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো.নূরুল আবছার। আটক এসএম তানভিরুল আলম (২৫) চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানার ছিপাতলী এলাকার এসএম শাহ আলমের ছেলে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে করোনার অনলাইন হাটে হাজার কোটি টাকার চমক

্যাব সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি চাইনিজ পণ্য সেবা প্রদানকারী হুমসেইল, ফ্রি অর্ডার শিপিং বাংলাদেশ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে শীতকালীন পণ্যের চাহিদা চেয়ে পোস্ট করেন ভুক্তভোগী যুবক। তার দেওয়া পোস্টে সাড়া দিয়ে ভুক্তভোগীকে ইনবক্স করেন ওই পেইজের মালিক তানভিরুল আলম।

পরে তাদের মধ্যে পণ্যের বিষয়ে কথা হয়। ২০ হাজার টাকার পণ্যের চাহিদা ও দাম নির্ধারণ হয় তাদের মধ্যে। পণ্যের দামের ৫০ শতাংশ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করতে বলা হয়। বাকি টাকা পণ্য হাতে পাওয়ার পর দিতে বলেন। কথামতো ভুক্তভোগী যুবক বিকাশের মাধ্যমে ১০ হাজার ৭৫ টাকা পরিশোধ করেন।

পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার কথা ছিল ২ ফেব্রুয়ারি। পণ্য ডেলিভারির সময় অনুযায়ী ভুক্তভোগীকে দেওয়া নাম্বারে যোগাযোগ করলে নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ভুক্তভোগী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ৩ ফেব্রুয়ারি খুলশী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে তানভিরুল আলমকে আটক করে র্যাব।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম রেলে প্রতারণার ফাঁদ, টাকা মেরে খাচ্ছে দুই ভাই সাকিব—তানিম

্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মো. নূরুল আবছার আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, অনলাইনে পণ্য বিক্রি ও বিদেশ থেকে পণ্য ইনপুট সেবা প্রদানের মাধ্যমে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগে তানভিরুল আলম নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। সে ফেসবুকে অনলাইন গ্রুপ খুলে সহজ-সরল মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাকলিয়া থানার রাহাত্তরপুল এলাকা থেকে তাকে আটক করি।

তিনি আরও বলেন, সে করোনাকালে এ অনলাইন ব্যবসা শুরু করে। বিভিন্ন সময়ে লোভনীয় পণ্য পেইজে দিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে নিম্নমানের পণ্য ডেলিভারির পাশাপাশি আলু, পটল, পেঁয়াজও গ্রাহকদের জন্য পাঠাতো। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।

এএইচ/এসি

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm