‘অদৃশ্য চাপে’ চসিক প্রশাসক সুজনের অনিয়ম তদন্ত, মাঠেই শেষ ২৩০ দিন

হঠাৎ থমকে গেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক প্রশাসক ও নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজনের অনিয়মের তদন্ত। ‘অদৃশ্য চাপে’ এই তদন্তের গতি পাচ্ছে না।

গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বরে মধ্যে প্রতিবেদন প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার কথা বলেছিলেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। কিন্তু ২৩০ দিন পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখছে না তদন্ত প্রতিবেদন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক চসিক প্যানেল মেয়র-২ গিয়াস উদ্দিন আলোকিত চট্টগ্রামকে বলেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই চসিক মেয়রের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

আরও পড়ুন : চসিক প্রশাসক সুজনের অনিয়মের খোঁজ—প্রতিবেদন ১৫ দিনের মধ্যেই

এবারও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আগের বারের পরিস্থিতি হবে কি-না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নিরপেক্ষতার দৃষ্টিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই মেয়র মহোদয় বরাবর প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

জানা যায়, ২০২০ সালের ৬ আগস্ট চসিক প্রশাসকের দায়িত্ব নেন খোরশেদ আলম সুজন। ১৮০ দিন দায়িত্ব পালন শেষে গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি তাঁর মেয়াদ শেষ হয়।

স্বল্প এ মেয়াদেই নগরের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১২টি জায়গা ১০ জনকে বরাদ্দ দেন খোরশেদ আলম সুজন। বরাদ্দ দেওয়া জায়গার মোট পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ১৮৮ বর্গফুট।

নগরের গুরুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক এলাকার এসব জায়গার কোনোটির প্রতি বর্গফুটের মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ৫ হাজার ৮৫০ টাকা। আবার কোনোটির প্রতি বর্গফুটের মাসিক ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সা!

আরও পড়ুন : ‘হাসপাতালবিরোধী আন্দোলনে’ এবার জুতার বাড়ির ‘বাড়াবাড়ি’—হঠাৎ সুর বদল সুজনের

ড্রেন ও নালার স্ল্যাবের ওপরেও দোকান বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ আছে। এতে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করা হয়। গত বছরের ২৫ এপ্রিল চসিকের সাধারণ সভায় মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। এরপর ২২ মে গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি।

এ তদন্ত কমিটিতে চসিকের প্যানেল মেয়র-২ ও বাগমনিরাম ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. গিয়াস উদ্দিনকে আহ্বায়ক এবং প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে সদস্য সচিব করা হয়। কমিটির অপর তিন সদস্য হলেন- আইন কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী বিপ্লব কুমার দাশ ও সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন।

আলোকিত চট্টগ্রাম
1 মন্তব্য
  1. ইমু বলেছেন

    তদন্ত হোক। শুধু সুজন ভাইয়ের সেই ১৮০দিনের না করে, সাথে ৫বছরের সব কিছুরই হোক। ৮০০কোটি টাকা দেনায় রেখে যিনি মেয়রের দায়িত্ব ছেড়েছেন উনার গুলোও প্রকাশ করা হোক।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm