অঢেল সম্পদ—কোটি টাকা কামিয়ে জেলে যেতে হচ্ছে ওসি শাহজাহানকে

দুদকের মামলায় কারাগারেই যেতে হবে লোহাগাড়া ও সন্দ্বীপ থানার দাপুটে সেই ওসি মো. শাহাজাহানকে। একসময়ের বেপরোয়া এই ওসি শেষমেশ ধরাশায়ী হলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার ওসি থাকাকালে অনিয়ম, গ্রেপ্তার বাণিজ্য, মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়সহ নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠে তাঁর বিরুদ্ধে। হুঙ্কার দিয়েই চলত দিন-রাত। ভয় দেখানোর কৌশল হার মানাত ফিল্ম স্টাইলকেও। চোখ রাঙিয়ে আদায় করা হতো টাকা— এমন গুঞ্জনও রয়েছে শাহাজাহানকে ঘিরে।

লোহাগাড়া থানা হেফাজতে থাকা মামলার এক আসামিকে সাজা দেওয়ার ঘটনায় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন এই ওসি। এরপর গত জুনে ওসি শাহজাহানকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ট্যুরিস্ট পুলিশে বদলি করা হয়। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশে কর্মরত।

আরও পড়ুন: সৌন্দর্যবর্ধনে অনিয়ম—সিটি করপোরেশনে দুদকের হানা

ওসি শাহাজাহান কুমিল্লা জেলার লালমাই থানার হাজাতখোলা বাজার কাতালিয়া গ্রামের সুলতান আহমদের ছেলে। পরিবারসহ থাকেন চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার লালখানবাজার এলাকার ১৪ হাইলেভেল রোডে।

জানা যায়, ৭৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ওসি শাহজাহানে নামে চট্টগ্রামে মামলা করেছে দুদক। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।

মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর উপপরিচালক রতন কুমার দাশ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদক কর্মকর্তা রতন কুমার দাশ আলোকিত চট্টগ্রামকে জানান, অভিযোগ পেয়ে সম্পত্তির বিবরণ দিতে ওসি শাহাজাহানকে নোটিশ পাঠানো হয়।

শাহজাহানের দাখিল করা সম্পদ বিবরণী অনুসন্ধানে ৪৯ লাখ ৩৯ হাজার ১২৬ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে পুলিশ পরিদর্শক শাহজাহানের বিরুদ্ধে ৭৮ লাখ এক হাজার ৫২০ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, যা তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে মিল নেই।

এছাড়া তাঁর স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তারের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ১৭ লাখ ৭৫ হাজার ৬১৭ টাকা। এর মধ্যে বৈধ আয় ৪৭ লাখ ৮৩ হাজার ৬৫৫ টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য খাতে তিনি ব্যয় করেছেন ১৩ লাখ ২৮ হাজার ৭৩০ টাকা। সবমিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ২ কোটি ৮৩ লাখ ২ হাজার ৬৯২ টাকা জ্ঞাত আয়বর্হিভূত সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে।

আলোকিত চট্টগ্রাম
আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।

ksrm